ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
উত্তরাঞ্চলে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, রোববার শেষ দিন
করতোয়া ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে চলছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। জেলার সংসদীয় আসনগুলোতে প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রসমূহ যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা বৈধ, অবৈধ ও স্থগিত ঘোষণা করছেন রিটার্নিং ও জেলা প্রশাসকগণ।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো এ সংক্রান্ত আরও খবর.....
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি আসনে জমা পড়া ২১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১৯টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও, একটি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং জাতীয় পার্টির এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দলীয় মনোনয়নের মূলকপি না থাকায় স্থগিত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা এ তথ্য জানান।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম।
ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈলের একাংশ) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির ডা. মো. আব্দুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল হাকিম, জাতীয় পার্টির নূরুন নাহার বেগম, গণ অধিকার পরিষদের মো. ফারুক হোসেন, এবি পার্টির মো. নাহিদ-রানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে আটজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মো. জাহিদুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. মিজানুর রহমান, সিপিবির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম, গণ অধিকার পরিষদের মো. মামুনুর রশিদ মামুন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আল আমিন, মুসলিম লীগের এসএম খলিলুর রহমান, বিএমজেপির কমলা কান্ত রায় এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আবুল কালাম আজাদ।
তবে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের মনোনয়নপত্র দলীয় মনোনয়নের মূলকপি না থাকায় স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. আশা মনির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানা যায়।
পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলার দুইটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান।
পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহাফুজুর রহমান। এছাড়া মনোনয়নপত্রের সাথে হলফনামা দাখিল না করায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পঞ্চগড়-২ (দেবীগঞ্জ ও বোদা) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর মো. সফিউল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কামরুল হাসান প্রধান, বাংলাদেশ জাসদের মো. ইমরান আল আমিন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর মো. দেলোয়ার হোসেন।
অপরদিকে হলফনামা জমা না দেওয়ায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, অঙ্গীকারনামা না থাকায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মো. রেজাউল ইসলাম, প্রয়োজনীয় সনদপত্র সংযুক্ত না করায় জাতীয় পার্টির মো. লুৎফর রহমান রিপন, ঋণ খেলাপি থাকায় সিপিবির মো. আশরাফুল আলম এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে তথ্য ভুল প্রমাণিত হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিমুল ইসলাম (বুলবুল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহামুদ হোসেন সুমনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
দিনাজপুর: দিনাজপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত দু’দিনে ৬টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ২টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সদর আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ- কাহারোল) স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনজুরুল হক চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া ওই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি’র প্রার্থী আলহাজ মনজুরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. মতিউর রহমান, জাতীয় পার্টির শাহীনুর ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এড. মো. চাঁন মিয়া ও জাকের পার্টির প্রার্থী রঘুনাথ চন্দ্র রায়, এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. রিজুওয়ানুল ইসলাম।
দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সকলকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির প্রার্থী মো. সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর একেএম আফজালুল আনাম, জাতীয় পার্টির মো. জুলফিকার হোসেন, জাতীয় পার্টি-জেপি’র সুধীর চন্দ্র শীল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহাম্মাদ রেদওয়ানুল কারীম রাবিদ, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের মো. মোকারম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোবায়ের সাঈদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম বজলুর রশিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার চৌধুরী জীবন।
দিনাজপুর-৩ সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় পার্টির আহমেদ শফি রুবেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এড. মাইনুল আলমসহ মোট ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি’র প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান মিয়া, জামায়াত ইসলামের মো. আফতাবউদ্দীন মোল্লা, জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন শাহ ও ইসলামী আন্দোলনের মো. আনোয়ার হোসাইন।
রাজশাহী: রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৮ জন প্রার্থীর ১৯ জনের প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। বৈধ ১৯ প্রার্থী হলেন- রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও এবি পার্টির আব্দুর রহমান।
রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এবি পার্টির সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল হক ও নাগরিক ঐক্যের সামছুল আলম। রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপির এড. শফিকুল হক মিলন, জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন।
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী। রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের মনজুর রহমান। রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ, জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস সালাম সুরুজ।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে রাজশাহী-১ আসনের বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম তারেক, রাজশাহী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ, রাজশাহী-২ ও রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা শাহাবুদ্দিন, রাজশাহী-৩ আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহনপুর উপজেলা কৃষকলীগের নেত্রী হাবিবা বেগম, রাজশাহী-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লন্ডন প্রবাসী জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিম, এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী সমর্থক আইনজীবী রায়হান কাওসার, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জুলফার নাঈম মোস্তফা।
আরও পড়ুনদলীয় প্রার্থীদের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মীর মো. শাহাজান, রাজশাহী-২ আসনের এলডিপির প্রার্থী মো. ওয়াহেদুজ্জামান, রাজশাহী-৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফজলুর রহমান, আমজনতার দলের সাঈদ পারভেজ, রাজশাহী-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান, রাজশাহী-৫ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা এবং রাজশাহী-৬ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
এদের বেশিরভাগই সমর্থক হিসেবে নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিকভাবে দিতে পারেননি। এছাড়া কেউ ঋণ খেলাপি আবার কেউ যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। তাই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ১৬ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির ২ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ত্রুটি সংশোধনের পর বৈধ ঘোষণা করা হবে (পেন্ডিং)। বাকি ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাতিলকৃত প্রার্থীরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী আফজাল হোসেন। তার ইনকাম স্টেটমেন্টের সাথে আয়ের পার্থক্য রয়েছে। ইনকাম ট্যাক্স রির্টানে তিনি একটি সম্পত্তি দেখাননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট) আসনে বাতিল হয়েছেন জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ খুরশিদ আলম। তিনি দলীয় মনোনয়নপত্রের স্ক্যান কপি দিয়েছেন। মূল কপি দেখাননি। এছাড়া ২০১৬ সালে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্রের দালিল প্রমাণও তিনি দেখাননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনে বাতিল হয়েছেন জেএসডি প্রার্থী ফজলুর ইসলাম খাঁন। ঋণ খেলাপের কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর নেই। স্বাক্ষর ও তথ্য দেয়ার পর তার মনোনয়নপত্র পরে বৈধ ঘোষণা করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বৈধ ৫ প্রার্থী হলেন- বিএনপির শাহাজাহান মিঞা, জামায়াতের কেরামত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নবাব মো. শামসুল হোদা এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিেেজাটের আব্দুল হালিম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বৈধ ৪ প্রার্থী হলেন- বিএনপির আমিনুল ইসলাম, জামায়াতের ড. মিজানুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির সাদেকুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম খলিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বৈধ ৩ প্রার্থী হলেন- বিএনপির হারুনুর রশীদ, জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ৫ আসনে দু’দিন ব্যাপী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মোট ১৬জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও ২৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ৪৫জন প্রার্থীর মধ্যে যাচাই বাছাইয়ের প্রথমদিনে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ৫ জন ও গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৩ জনসহ ৮ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয়দিনে গাইবান্ধা ২, ৩, ৪,আসনে সিপিবি, গণঅধিকার, পরিষদসহ ৮জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে মঞ্জুরুল হক (জনতার দল) আজিজার রহমান (স্বতন্ত্র) ও এসএম খাদেমুল ইলাম খুশীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে আব্দুর রউফ আকন্দ (স্বতন্ত্র) এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়িও সাঘাটা) আসনে সিপিবির শ্রী নির্মল, গণঅধিকার পরিষদের সামিউল ইসলাম ও হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ (স্বতন্ত্র) ও সুজাউদ্দৌলা সাজুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. নাজমুস সাকিব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সবুরের মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় তা বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সেলিম রেজা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহীনুর আলমসহ মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জনতার দলের প্রার্থী মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকায় এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনের দাখিলকৃত কাগজপত্রে ত্রুটি পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামসহ পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস রেজা রবিন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুর রউফ সরকারের মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় তা বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আয়নুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুস সামাদ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাবনা: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয়দিনে পাবনার দু’টি আসনের ২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনা জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা।
মনোনয়নপত্র বাতিল করা প্রার্থীরা হলেন- পাবনা-২ আসনের গণফোরামের প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিন ও পাবনা-৩ আসনে গণধিকার পরিষদের প্রার্থী হাসানুল ইসলাম রাজা। তাদের মধ্যে শেখ নাসির উদ্দিন মনোনয়পত্রের সাথে আয়কর রিটার্নের কপি জমা না দেয়ায় এবং হাসানুল ইসলাম রাজার আয়কর বকেয়া থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
সৈয়দপুর (নীলফামারী): নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের চার স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- রিয়াদ আরফান সরকার, এস.এম. মামুনুর রশিদ, জোবায়দুর রহমান (হীরা) ও মো. শাহ্রিয়ার ফেরদৌস।
এছাড়া মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মুনতাকিম, জাতীয় পার্টির মো. জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মাইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মো. আব্দুল গফুর সরকার, জাতীয় পার্টির মো. সিদ্দিকুল আলম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি’র নূর মোহাম্মদ।
মন্তব্য করুন







