ভিডিও শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪০ এএম

হালিমা আক্তার হানী

মোবাইল সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা

মোবাইল সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা

বর্তমানে সহজ-সরল মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে অনেক মানুষ এখনও সরল জীবনযাপন করেন। এদের ধর্মীয় আবেগ ও সরলতাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু মোবাইল সাংবাদিক ও প্রতারক চক্র তাদের ফাঁদে ফেলছে। ভুয়া সাংবাদিক, সাধু, বা হুজুর সেজে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণা করে তারা অর্থ আদায় করে থাকে। প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে ঠকায়। ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে এরা দাবি করে যে, তাদের কাছে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে "সংবেদনশীল তথ্য" আছে, যা প্রকাশিত হলে তার সামাজিক সম্মান নষ্ট হবে। টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়। 

ভুয়া সাধু বা হুজুর সেজে ধর্মীয় আবেগের অপব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণা করা হয়। তারা বলে, "আপনার ভাগ্যে বড় বিপদ আছে, যা কাটাতে আমাকে টাকা দিতে হবে," কিংবা "আপনার পরিবারের ওপর অভিশাপ রয়েছে, যা দূর করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা প্রয়োজন।" ধর্মপ্রাণ মানুষ এ ধরনের প্রতারণায় সহজেই প্রভাবিত হয়। কিছু প্রতারক শিশুদের মোবাইল গেম বা পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য আদায় করে। পরে এই তথ্য ব্যবহার করে তাদের পরিবারকে টার্গেট করা হয়। 

অন্যদিকে, বৃদ্ধ মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে আশীর্বাদ প্রদানের লোভদেখানো হয় কিংবা অভিশাপের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। এমনকি কিছু প্রতারক নিজেদের রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি সেজে হুমবিন দেয় যে, টাকা না দিলে ভুক্তভোগীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে। এ ধরনের প্রতারণা বিস্তারের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। 

প্রথমত, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং এর অপব্যবহার অপরাধীদের কাজ সহজ করে দিয়েছে ভুয়া পরিচয়ে সিম কার্ড ব্যবহার করে তারা অপরাধ সংঘটিত করে এব শনাক্ত হওয়া এড়ায়। দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল প্রয়োগ অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে। তৃতীয়ত, মানুষের সচেতনতার অভাব এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে বড় বাধা। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মানের ভয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন না। এই প্রতারণার ফলে মানুষের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক বিপর্যয় ঘটে। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানোর কারণে মানুষ প্রতারিত হওয়ার পরেও মানসিকভাবে চাপে থাকে। শিশু ও বৃদ্ধরা এই প্রতারণার প্রধান শিকার, যার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সমস্যাটি সমাধানের জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার। সাধারণ মানুষকে প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে সচেতন করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বা সন্দেহজনক লিংকের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভুয়া সিম কার্ড ব্যবহারের রোধে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে এবং অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত সিম কার্ড দ্রুত ট্র্যাক করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। 

আরও পড়ুন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং প্রতারকদের শনাক্ত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। ভুক্তভোগীদেরও সাহস করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো প্রয়োজন। সামাজিক সম্মানের ভয়ে নীরব থাকার প্রবণতা প্রতারকদের আরও সাহসী করে তোলে। মোবাইল সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা একটি গুরুতর সমস্যা। এটি শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, বরং মানুষের মানসিক শান্তি এবং সমাজের স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করে। 

সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতারণা বন্ধে একযোগে কাজ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোবাইল সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা

১

মেঘনায় ট্রলারডুবি : তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

২

দেশের বাজারে দাম কমল সোনার

৩

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৪

ইমরান খানকে ছাড়াতে লং মার্চ, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে লকডাউন

৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগ নেতার ঘরে আগুন

৬