ভিডিও বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৯ এএম

ইসলাম রফিক

বগুড়া লেখক চক্রের ৩৮ বছর : অবিরাম পথচলা

বগুড়া লেখক চক্রের ৩৮ বছর : অবিরাম পথচলা

বগুড়া লেখক চক্রের কথা : কোন জনপদের চিন্তাধারার প্রতিনিধি, কন্ঠস্বর, বিবেকের অনুশাসন হিসেবে কবি, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক সৃজনশীল প্রতিটি মানুষই ভূমিকা রাখেন। এভাবেই সম্মিলিত ভাবধারায় একটি সমগ্র চিত্র অংকিত হয়। বৈচিত্র্য নিয়ে অনুভূতির বিন্দু বিন্দু পললে ঘাত-প্রতিঘাত ও লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষ সভ্যতাকে বিনির্মাণ করে। শস্ত্র যেখানে কলম, দানব শক্তিও সেখানে ভীত, কুণ্ঠিত হয়। লেখক, মানুষের নিরাপোষ অবলম্বনের প্রতিনিধি। জীবনের মৌলবিশ্বাস ধ্বনিত হোক শিল্পীর স্বাধীনতায়। মানুষের চিন্তাধারা,কন্ঠস্বর, সভ্যতার বিকাশধারা, অনুভূতির শতরূপ জটিলতা কলমের ঝর্নাধারায় প্রবাহিত হোক। জীবন আবিষ্কৃত হোক। হন্তারকের অশুভ হাত মানবীয় অনুভূতিকে দুমড়ে-মুচড়ে দলিত মথিত করতে উদ্যোগী। 

দেশে দেশে শান্তিকামী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। যুদ্ধ আর সহিংসতার বিবুদ্ধে শান্তিকামী মানুষেরা আজ সোচ্চার কন্ঠ। দুঃসময়ের এই পাদপীঠে দাঁড়িয়ে ১৯৮৮ খৃষ্টাব্দের ১৬ সেপ্টেম্বর বগুড়া লেখক চক্রের জন্ম। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বগুড়া লেখক চক্রের ৩৮ বছর পূর্তি। আজকের দিনে বগুড়া লেখক চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সকল সদস্য, বগুড়া লেখক চক্রকে যারা বিভিন্ন সময় নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন, সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, সাংবাদিক বন্ধুদের এবং প্রতিষ্ঠার দিন থেকে আজ পর্যন্ত যারা সংগঠনের সাথে কাজ করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলকেই বগুড়া লেখক  চক্রের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি। 

সংগঠনের কার্যক্রম: সাহিত্য সংগঠন হিসেবে বগুড়া লেখক চক্রের ৩৮ বছর পথচলা গর্বের এবং অহংকারের, এর অংশীদার বগুড়ার সকল মানুষ, দেশে বিদেশে সাহিত্যমনা সকল ব্যক্তি। যে কয়টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বগুড়াবাসী গর্ব করতে পারেন, তার মধ্যে বগুড়া লেখক চক্র একটি। কেননা দেশে ৩৮ বছরের সাহিত্য সংগঠন খুব কমই রয়েছে। যদিও থাকে এই সংগঠনের মতো কর্মময় সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই। সাহিত্য সংগঠন হিসেবে বিরতি-হীনভাবে ৩৮ বছর পথচলা বগুড়া লেখত ঢাকের প্রশ্নতন কম কথা নয়, অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তবেই তো ৩৮ বছর। এই ৩৮ বছরে একদিনের জন্যও বগুড়া লেখক চক্রের পাক্ষিক সাহিত্য আসর বন্ধ হয়নি, সেটা ঝড় বৃষ্টি যাই হোক আর যে কোন উৎসব হোক। প্রতিবছর ২৬টি করে পাক্ষিক সাহিত্য আসর আমরা করেছি যার একটা বড় অংশ জুড়ে আছে পৌরপার্কের সবুজ চত্বর। তরণ ছেলেমেয়েদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে এবং শুদ্ধ সাহিত্যচর্চা করতে সব রকম পদক্ষেপ নিয়েছে সংগঠনটি। কবিতার ক্লাস করানো, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, প্রকাশিত বই নিয়ে আলোচনা, লেখালেখি বিষয় কর্মশালা করা, বই প্রকাশ করা কিংবা বই প্রকাশ করতে সহযোগিতা করা, সংগঠনের মুখপত্র 'ঈক্ষণ' এর ধারাবাহিক প্রকাশ। এর বাইরে প্রতিবছর কবি সম্মেলন, কবি সাহিত্যিকদের জন্মদিন, মৃত্যুদিবস পালন, বইমেলায় অংশগ্রহণ, তরঙ্গ লেখকদের নিয়ে স্পর্ধিত প্রতি চাময়িকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বস্তুন্ধা লেখক চারু তারণ্য কবিতা উৎসব, পু-নগর সাহিত্য উৎসব এবং কবিদের বিভিন্নভাবে সম্মান জানানোসহ অনেক কাজ। অর্থাৎ লেখকদের ঋদ্ধ করা, সম্মানিত করা এবং তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সবসময় পাশে থেকেছে বগুড়া লেখক চক্র। প্রতিবছর জমকালোভাবে পালন করা হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং প্রতি বছর কবি সম্মেলনে বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার প্রদান করা হয়। বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। সমাজের জন্য নিভৃতে কাজ করে যাওয়া মানুষদেরকেই আমরা পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করি। গত ৩৮ বছরে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে আমরা পুরস্কৃত কিংবা সম্মানিত করেছি।

লক্ষ্য ও আদর্শ: প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই বগুড়া লেখক চক্র একটি অরাজনৈতিক সাহিত্য সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তচিন্তা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী সাহিত্য সংগঠনটি ৩৮ বছরে আদর্শ থেকে একচুলও নড়েনি, ভবিষ্যতেও এই লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়েই সংগঠনের পথচলা অব্যাহত থাকবে। 

আরও পড়ুন

উপসংহার : সংগঠন হিসেবে বগুড়া লেখক চক্রের অনেক সুনাম। এর সাংগঠনিক কাঠামোও শক্তিশালী। আর দশটা সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো বগুড়া লেখক চক্রেরও নিজস্ব কোন ফান্ড নাই। সদস্যদের অনিয়মিত মাসিক চাঁদা আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদানে চলে এই সংগঠনটি। নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় ভাড়া করা ঘরে চলে এর কার্যক্রম। প্রতিবছর ২৬টি পাক্ষিক সাহিত্য আসর, স্পর্ধিত তারণ্য কবিতা উৎসব, পুণ্ড্রনগর সাহিত্য উৎসব, দেশিয় ফল উৎসব, কবি সাহিত্যিকদের জন্মদিন মৃত্যুদিন পালন, কবি সম্মেলনসহ অনেক অনুষ্ঠান করতে যেয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। আজ ৩৮ বছর পূর্তির দিনে বগুড়া লেখক চক্রের জন্য একটা স্থায়ী কার্যালয় এবং স্থায়ী আর্থিক ফান্ডের নিশ্চয়তা চাচ্ছি সরকারের কাছে। কেননা একমাত্র সাহিত্যই পারে সুন্দর মনন তৈরি করতে যা জাতি গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। কত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প হয়, কিন্তু কবি-সাহিত্যিক কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য কোন বড় প্রকল্প নাই বললেই চলে। আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়ে বগুড়া লেখক চক্র গত ৩৮ বছর ধরে যেভাবে পথ চলেছে, আগামী দিনেও আপনাদের সহযোগিতা চাই। বগুড়া লেখক চক্র আপনার সংগঠন, একে সক্রিয় কার্যক্রমের মাধ্যমে টিকে রাখার দায়িত্বও আপনার। সবাইকে বগুড়া লেখক চক্রের পক্ষ থেকে আবারও অভিনন্দন।

লেখক: কবি, সভাপতি, বগুড়া লেখক চক্র [email protected] ০১৭১২-৬২৬৪২৬

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়া লেখক চক্রের ৩৮ বছর : অবিরাম পথচলা

চার দিনের সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান

হাজিদের কোনো কষ্ট সহ্য করা হবে না : এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসে আগুন

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসায় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা আদালতে স্থগিত

ঢাবি ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল