খেলার সময় ফুটবলাররা পানি মুখে নিয়ে আবার ফেলে দেন কেন?
স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচ চলাকালে অনেক ফুটবলারকে দেখা যায় মুখে পানি নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করার পর তা গিলে না ফেলে মাঠেই ফেলে দিতে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এই দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে। অনেকেই এটিকে মুখ ঠান্ডা রাখার উপায় মনে করলেও, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত একটি কৌশল, যার নাম ‘কার্বোহাইড্রেট রিন্স’।
কার্বোহাইড্রেট রিন্স হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে খেলোয়াড়রা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে তা গিলে না ফেলে ফেলে দেন। মুখের ভেতরের বিশেষ রিসেপ্টর কার্বোহাইড্রেট শনাক্ত করে মস্তিষ্কের উদ্দীপনা ও পুরস্কার-সংশ্লিষ্ট অংশকে সক্রিয় করে। এতে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে এমন সংকেত পায় যে শরীরে শক্তি আসছে, ফলে খেলোয়াড় কিছুটা বেশি সতেজ অনুভব করতে পারেন এবং পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই কৌশল মূলত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করতে, দীর্ঘ সময়ের উচ্চ-তীব্রতার খেলায় মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এবং যেসব খেলোয়াড় ব্যায়ামের সময় কার্বোহাইড্রেট খেলে পেটের অস্বস্তিতে ভোগেন, তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তবে কার্বোহাইড্রেট রিন্স শরীরে কোনো শক্তি সরবরাহ করে না। কারণ পানীয়টি গিলে খাওয়া হয় না, ফলে এটি শরীরের শক্তির মজুত বাড়ায় না বা দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে না। এর প্রভাব সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য থাকে।
আরও পড়ুনবিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ থেকে ৭০ মিনিটের উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়ামে এই কৌশল কিছুটা উপকার দিতে পারে। তবে ফুটবলের নির্দিষ্ট দক্ষতা—যেমন ড্রিবলিং, শট নেওয়া বা হেডিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কার্বোহাইড্রেট রিন্সে সাধারণত মেল্টোডেক্সট্রিনযুক্ত কার্বোহাইড্রেট দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। এটি সহজপাচ্য এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা বিভিন্ন স্পোর্টস ড্রিংক, জেল, গামি, গুঁড়ো পানীয় এবং রিকভারি সাপ্লিমেন্টে পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের কার্যকারিতা শুধু মিষ্টি স্বাদের কারণে নয়। বরং ক্যালোরিযুক্ত কার্বোহাইড্রেটই মুখের রিসেপ্টরের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত পাঠায়। তাই কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা কিন্তু ক্যালোরিবিহীন পানীয় একই ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না।
মন্তব্য করুন









