পঞ্চগড় সীমান্তে শূন্যরেখায় তিনদিন ধরে অবস্থান নারী-শিশুসহ ১০ জনের
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের ঘটনায় উভয়পক্ষ কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। আজ রোববার (৭ জুন) তৃতীয় দিনের মতো ভারতের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে কাঁদা পানির মধ্যে অবস্থান করছেন তারা।
আজ দুপুরে বড়বাড়ি সীমান্তের বাংলাদেশের শূন্যরেখায় গিয়ে দেখা গেছে, জেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার ভারতীয় শূন্যরেখার জমির আইলেই এখনও পর্যন্ত অবস্থান করছে তিন শিশু, দুই নারীসহ ১০ জন। প্রখর রোদের মধ্যে অবস্থান করে অমানবিকভাবে দিন-রাত পার করছেন তারা।
বিজিবি ও সীমান্তের লোকজন জানান, গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় উপজেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮ এর ৫নং সাব পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এরই মধ্যে সীমান্তের উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ’র মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সুরাহ হয়নি।
তিনদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাদা পানির মধ্যেই শুয়ে বসে আছেন। মাথার ওপর পলিথিন ধরে কোনভাবে রোদ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। কোন দেশের পক্ষ থেকে তাদের খাবার ও পানির ব্যবস্থাও করা হয়নি। সকালে বিজিবি’র পক্ষ থেকে খাবার পানি দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিএসএফ বাধা দেয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিএসএফ ভারতীয় শূন্যরেখায় অবস্থানকারী ১০ জনকে আবারও বাংলাদেশের শূন্যরেখায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এসময় ওই সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিএসএফ তাদের নিয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে উভয়পক্ষই মুখোমুখী অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত নতুন করে কোন পতাকা বৈঠক হয়নি।
আরও পড়ুনপুশইনের শিকার আব্দুস সালাম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, আমাদের আনার সময় সাথে করে যা এনেছিলাম তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। কেউ আমাদের খাবার ও পানি দিচ্ছে না। এমন নির্মম ও অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ সীমান্তের বাংলাদেশ প্রান্তের লোকজনও।
মন্তব্য করুন









