ভিডিও রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৭ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ দুপুর

নাটোরে আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে আঙ্গুর চাষে সফল মিলন

নাটোরে আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে আঙ্গুর চাষে সফল মিলন, ছবি: দৈনিক করতোয়া ।

নাটোর (নলডাঙ্গা) প্রতিনিধি : দূর থেকে দেখলে মনে হবে, লাল, সবুজ কিংবা হলুদ রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে বিয়ের কোনো প্যান্ডেল। কিন্তু একটু কাছে গেলেই ভুল ভেঙে যাবে। সবুজ পাতার ফাঁকে রঙিন এসব ফ্রুট ব্যাগের ভেতরে ঝুলছে থোকা থোকা রসালো আঙুর। ক্ষতিকারক পোকামাকড়, রোগবালাই ও পাখি থেকে সুরক্ষায় এবং ফলের আকর্ষণীয় রং বজায় রাখতে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি। 

আর সবুজ পাতার আড়ালে উঁকি দেওয়া এসব আঙুর দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন, খেতেও তেমনি মিষ্টি। এক সময় সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল-বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ মানেই তা হবে টক। কিন্তু সেই চেনা ধারণা ও চিরাচরিত মিথকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে দেশের মাটিতেই মিষ্টি আঙুর চাষের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাটোরের এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। এ জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্বসোনাপাতিল গ্রামের এই সফল তরুণ কৃষি উদ্যোক্তার নাম মিলন হোসেন সরদার। তার বাবা মানিক সরদারও একজন সফল চাষি। বাবার অনুপ্রেরণা ও নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বছর তিনেক আগে বাড়ির পাশে তিনটি প্লটে প্রায় দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন মিলন।

বর্তমানে তার বাগানে রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ সহ মোট ১০টি উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। বাগানজুড়ে ঝুলতে থাকা থোকা থোকা আঙুর যেন তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন। মিলন হোসেনের বাগানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো-এখানে মিলবে সম্পূর্ণ কীটনাশক ও ফরমালিনমুক্ত শতভাগ নিরাপদ আঙুর। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদিত এই সুমিষ্ট আঙুর দেখতে এবং স্বাদ নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ ছুটে আসছেন তার বাগানে। কেউ আসছেন চারা কিনতে, কেউ আসছেন পরিবারের জন্য বিষমুক্ত আঙুর সংগ্রহ করতে, আবার কেউ আসছেন কেবলই বাগানটি পরিদর্শনে। বাগানের আঙুর মুখে দিয়ে এর চমৎকার মিষ্টি স্বাদে অভিভূত হচ্ছেন প্রতিবেশী ও দর্শনার্থীরা।

উদ্যোক্তা মিলন হোসেন সরদার তার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে  বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশের সাথে রাশিয়ার ‘বাইকুনুর’ জাতটি চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে। এর ফলন যেমন দারুণ, বাজারে চাহিদাও ব্যাপক। বাণিজ্যিকভাবে এই জাতটি চাষ করে যে কেউ সহজেই আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। বর্তমানে আমি আঙুরের পাশাপাশি এর চারা তৈরি ও বিক্রিও শুরু করেছি। প্রতি পিস চারা ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, এ বছর তিনি ৫ হাজার পিস আঙ্গুরের চারা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার বিক্রি হয়েছে। তার বাগানে ১৫০ টি আঙ্গুরের গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ১৫ কেজি করে ফলন আশা করছেন। ইতিমধ্যে ৪০০ টাকা কেজি দরে প্রায় তিন মন আঙ্গুর বিক্রি করেছেন। প্রতিদিন তার বাগানে দর্শনার্থীরা এসেও দুই-এক কেজি করে আঙ্গুর কিনে নিয়ে যান। এবার ভালো ফলন পেলে আগামীতে চাষাবাদের পরিধি আরো বাড়াবেন বলে জানান তিনি। 

এদিকে স্থানীয় কৃষি বিভাগের মতে, দেশীয় আবহাওয়া উপযোগী রাশিয়ান এই আঙুর চাষে কোনো রাসায়নিক সার বা ক্ষতিকারক কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র গোবর এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেই শতভাগ নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। 

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুল ইসলাম খান এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক জানিয়ে বলেন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক এই চাষ পদ্ধতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আঙুর বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। আর সঠিক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ফল আমদানির ওপর দেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে। 

অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দৃঢ় মনোবল, আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক পরিচর্যাকে কাজে লাগিয়ে মিলন হোসেন সরদার প্রমাণ করেছেন, প্রচেষ্টা থাকলে দেশের মাটিতেও যেকোনো বিদেশি উচ্চমূল্যের ফল সফলভাবে ফলানো সম্ভব। আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আঙুর চাষের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক অপার সম্ভাবনার পথ দেখিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তরুণদের এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষিতে এক নতুন বিপ্লব সাধিত হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাটোরে আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে আঙ্গুর চাষে সফল মিলন

শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় ব্রাজিলের

মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম, জুলাইতেও মানুষের পক্ষেই ছিলাম: ফারুকী

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

বিকেলে বসছে প্রথম বাজেট অধিবেশন

চলছে বিসিবি নির্বাচন