গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর জামায়াত কর্মী আটক
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: জেলার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জামায়াতের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব।
এর আগে গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। ওসির সঙ্গে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পুলিশের দাবি, একটি দোকান বন্ধ করার দাবিতে চাপ প্রয়োগ করলে ওসি বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এতে অসন্তুষ্ট হয়ে পলাশ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ওসির ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম নামে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পলাশবাড়ী থানার আহত এএসআই রুহুল আমিন জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশ ফোনে কথা বলতে বলতে থানায় প্রবেশ করেন এবং পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তাকে বাধা দিতে গেলে তার হাতে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়।
আরও পড়ুনআহতদের চিকিৎসা দেওয়া পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ সোহাগ জানান, রাত সোয়া ১০টার দিকে আহত পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা নেন। কয়েকজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে।এদিকে ঘটনার পর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম লেবু থানায় গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তের দাবি জানান।
গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে নির্দোষ কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়।
জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী জানান, উপজেলা প্রশাসনের একটি দোকান নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। ওসিকে চাপ দিয়ে দোকান বন্ধ করতে বলা হলেও তিনি তা করতে অপারগতা জানান। এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন






_medium_1774543596.jpg)
