উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস ও তীব্র কুয়াশায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা
করতোয়া ডেস্ক : উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস ও তীব্র কুয়াশায় নতুন করে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এদিকে সূর্যের দেখা না মেলায় জেঁকে বসেছে শীত। এতে কাবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কাছাকাছি হওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। প্রতিনিধিদের পাঠানো এ সংক্রান্ত আরও খবর....
উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস ও তীব্র কুয়াশায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা মাত্র চারদিন সূর্যের কিরণে সবকিছু প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। তবে আবারও ভারী কুয়াশার কোলে লুকিয়েছে সূর্য। গতকাল রোববার দিনভর সূর্যের দেখা না মেলার সাথে উত্তরের কনকনে শীতল বাতাসে নতুন করে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু করে গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত ভারী কুয়াশা ঝড়েছে বৃষ্টির মত।
তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের শীতার্ত মানুষ। খড়কুটো জে¦লেও শীত নিবারণের চেষ্টা করছে এই অঞ্চলের মানুষগুলোকে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে রাস্তায় পড়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষ আর কর্মজীবী মানুষরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গতকাল রোববার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিকেল ৩ টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কাছাকাছি অবস্থান করার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, মাঝখানে কয়েকদিন বিরতি দিয়ে আবারও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। এঅবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। চলতি জানুয়ারি মাসে বেশ কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে বলে তিনি জানান।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে কাঁপছে উত্তরের সীমান্ত ঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার জনজীবন। গতকাল রোববার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এরকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা): নতুন বছরের শুরুতেই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে উত্তরের এ উপজেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। সকাল ৭টায় গোবিন্দগঞ্জে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, তাপমাত্রা আরও নেমে যাওয়ার শঙ্কাসহ এ অবস্থা কমপক্ষে আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, রিকশা ও ভ্যানচালকরা। গ্রামাঞ্চলে আলু ও বোরো ধানের বীজতলায় কাজ করাও দুষ্কর হয়ে উঠেছে। শীতজনিত কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়ে হাসপাতালতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
তবে তীব্র শীতে উষ্ণ কাপড়ের চাহিদা বেড়ছে। শীতবস্ত্র কিনতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন শপিং মলের দোকানে কিংবা ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে। ফলে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সবখানেই চাঙা হয়ে উঠেছে শীতবস্ত্রের দোকানগুলো।
আরও পড়ুনকাজিপুর (সিরাজগঞ্জ): যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় বইছে তীব্র শীতের হাওয়া। বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সাথে উত্তরের কনকনে বাতাস ও ঘন কুয়াশায় কাঁপছে এই তল্লাটের মানুষ। সকাল গড়িয়ে দুপুর এলেও দেখা মেলেনি সূর্যের। জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে গাড়ির হেডলাইট জ¦ালিয়ে চলছে যানবাহন। কৃষকেরা পরিচর্যার জন্য ক্ষেতে যেতে পারছে না।
সিরাজগঞ্জের দুইটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য মতে, শীতের প্রকোপ অনেক বেশি বলে জানা গেছে।
তাড়াশ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, গত শনিবার সকালে এ বছরের সর্বনিম্ন ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, গতকাল রোববার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এলাকা ঘুরে ঘুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, শীতে যতদূর সম্ভব ঘর থেকে কম বের হতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বের হলে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরিধান করতে হবে। তা না হলে শীতজনিত রোগ সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত বেড়ে যেতে পারে।
তারাগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের তারাগঞ্জে টানা বেশ কয়েকদিনের চলমান শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর, চাকরিসহ জনসাধারণ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ফলে দৈনন্দিন কাজ কর্মে অস্থিরতা নেমে এসেছে। শুক্র, শনি ও রোববার সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
দিন মজুররা শীতের তীব্রতার কারণে মাঠে কাজ করতে পারছে না। সন্ধ্যার পর পরেই ঘনকুয়াশার সাথে বৃষ্টি কুয়াশা পড়া শুরু হয়। শীতের তীব্রতা দিন দিন বেশি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ শীত নির্বারণের জন্য শীতবস্ত্র কিনতে ছুটেছেন পুরাতন কাপড়ের বাজারে।
তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শীতজনিত রোগে ২৫০-৩শ’জন শিশু ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি এলাকার প্রাণীকূলও পড়েছে চরম দুর্ভোগে।
অপরদিকে কুয়াশা ও শীতের কারণে ইরি-বোরো বীজতলা, আলু, গম ও সবজি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন






_medium_1767602323.jpg)

