ভিডিও সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০৫ বিকাল

রংপুর বিভাগের কারাগারগুলোতে ৩১ শতাংশই মাদক মামলার আসামি

রংপুর বিভাগের কারাগারগুলোতে ৩১ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। প্রতীকী ছবি

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর: রংপুর বিভাগের কারাগারগুলো এখন বন্দির চাপে নাকাল। নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে ৬ শতাধিক বন্দি অতিরিক্ত অবস্থান করছেন বিভাগের আটটি কারাগারে। এতে করে বন্দিদের মানবিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

রংপুরের উপ-কারামহাপরিদর্শক কামাল হোসেন গতকাল সোমবার জানান, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারসহ গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এই আটটি কারাগারের মোট বন্দি ধারণক্ষমতা ৫ হাজার ২শ’ জন। অথচ বর্তমানে এসব কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৫ হাজার ৮১৯ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় ৬ শতাধিক বন্দি বেশি রাখা হচ্ছে। কারাগারগুলোতে পুরুষ বন্দি ৫ হাজার ৬৩৬ জন ও নারী বন্দি রয়েছে ১৮৩ জন।

তিনি বলেন, এই শীতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বয়স্ক বন্দিদের জন্য গিজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগের অপর ৭টি কারাগারে অল্প সময়ের মধ্যে গিজার স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বন্দির কারণে অনেক কারাগারে সেল ও ব্যারাকে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি বন্দিকে থাকতে হচ্ছে। এতে করে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বন্দিদের ঘুমানো, খাওয়া ও দৈনন্দিন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে অবস্থানরত বন্দিদের মধ্যে শতকরা ৩১ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় এই হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। লালমনিরহাট কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ, দিনাজপুর কারাগারে ৪৪ শতাংশ এবং রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২৫ শতাংশ বন্দি মাদক মামলায় আটক রয়েছেন।

আরও পড়ুন

উপ-কারামহাপরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা এবং মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে এসব এলাকায় মাদক সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওইসব কারাগারে বন্দির চাপও বাড়ছে।

মানবাধিকারকর্মী রোকেয়া হাসান জানান, ধারণক্ষমতার বাইরে বন্দি রাখার ফলে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই দ্রুত বিচার কার্যক্রম জোরদার, জামিনযোগ্য মামলায় বন্দিদের মুক্তি এবং কারাগারের অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার বাড়লেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কারাগারে বন্দির সংখ্যা কমাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে রংপুর বিভাগের কারাগার পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুর বিভাগের কারাগারগুলোতে ৩১ শতাংশই মাদক মামলার আসামি

নৌবাহিনীতে বেসামরিক পদে ১০১ জনের নিয়োগ, আবেদন ফি ১১২ টাকা

ভেনেজুয়েলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ  

বগুড়ায় তারেক রহমানের আসা নিয়ে যা জানালেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি

গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই: ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যে দিনের বেলায় টিভিতে এবং অনলাইনে জাংক ফুডের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ