স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়ার ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের অবদানের কথা তুলে ধরে পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে গণঅধিকার পরিষদ। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে দলটি। সমাবেশে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন দলের সভাপতি নুরুল হক নুর।
র্যালিটি পুরানা পল্টন থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়, ফকিরাপুল পানির ট্যাংকি মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় ও গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ঘুরে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
সমাবেশে নুরুল হক নুর বলেন, ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হলেও এর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের সংগ্রামে দলটির নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, মোদিবিরোধী আন্দোলন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদের ১২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। রক্ত ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে দলটির ইতিহাস গড়ে উঠেছে। কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা ক্ষমতার হিসাব দিয়ে এই আত্মত্যাগ অস্বীকার করা যাবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান নুর। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর আদর্শিক নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। জামায়াতের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংকুচিত করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। এ সময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে ভারতের বিজেপির তুলনা করেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার যেকোনো চেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুনদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তাঁর দাবি, গণঅধিকার পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল এবং সেই আন্দোলনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জোটসঙ্গী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। তা না হলে ভবিষ্যতে বিএনপি রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন।
সমাবেশে শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান, হানিফ খান সজিব, সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, জসিম উদ্দিন আকাশ, আরিফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খান, খালিদ হোসেন ও সাকিব হোসাইন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন হাবিবুর রহমান রিজু, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুজ জাহের, মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি নাদিম হাসান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন এবং নারী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সংগীতা হক।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








