ঘরোয়া উপায় যেভাবে মশার উপদ্রব কমাবেন
ঘরে মশার উপদ্রব বাড়লে অস্বস্তির শেষ থাকে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। মশা তাড়াতে অনেকেই নানা ধরনের স্প্রে, কয়েল কিংবা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করেন। তবে ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কিছু সাধারণ অভ্যাসও মশার উপদ্রব কমাতে সাহায্য করতে পারে। রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া লেবুর খোসা থেকে শুরু করে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা- কিছু সহজ পদক্ষেপে মশার বংশবিস্তার ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন।
লেবুর খোসা ফেলে দেবেন না
লেবু ব্যবহারের পর খোসা ফেলে দেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখুন। লেবুর খোসায় থাকা প্রাকৃতিক সুগন্ধ কিছু মশা দূরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। খোসাগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ঘরের কোণায় রেখে দিন। তবে এটি একটি সাধারণ ঘরোয়া উপায়। লেবুর খোসার তীব্র গন্ধ মশা ও অন্যান্য পোকামাকড় ঘর থেকে দূরে রাখবে।
কিছু পোকামাকড় দূরে রাখতে লেবুর খোসা ব্যবহার করতে পারেন।
ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন
মশার উপদ্রব কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখা। ঘরের কোণে জমে থাকা ময়লা, অপ্রয়োজনীয় পাত্র কিংবা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় থাকলে নিয়মিত পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গায় নজর দিন। শুধু ঘরের ভেতর মশা তাড়ালেই হবে না, মশার বংশবিস্তারের জায়গাগুলোও দূর করতে হবে।
আরও পড়ুনজমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন
মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি হলো জমে থাকা পানি দূর করা। ফুলের টবের নিচের ট্রে, পুরোনো টায়ার, বালতি, পানির পাত্র, কুলার কিংবা ছাদে পড়ে থাকা জিনিসে পানি জমছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন। পানির ট্যাংক সব সময় ঢেকে রাখুন। কুলার ও অন্যান্য পাত্রের পানি নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং পাত্রের ভেতরও পরিষ্কার করুন। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও মশা ডিম পাড়তে পারে। তাই বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেবেন না।
প্রয়োজনে কার্যকর মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন
ঘরোয়া ব্যবস্থা নেওয়ার পরও মশার উপদ্রব থাকলে পরীক্ষিত সুরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করুন। ঘুমানোর সময় মশারি টানান। জানালা ও দরজায় মশা প্রবেশ ঠেকানোর জাল লাগাতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক স্প্রে বা বৈদ্যুতিক রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন। বাইরে যাওয়ার সময় হাত-পা ঢাকা পোশাক পরলে মশার কামড় থেকে সুরক্ষা পাওয়া সহজ হয়।
মশার কামড় শুধু অস্বস্তির কারণ নয়, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও তৈরি করে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সাময়িকভাবে মশা তাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে বংশবিস্তার বন্ধ করাও জরুরি। প্রতিদিন অল্প সময় নিয়ে ঘর ও আশপাশ পরীক্ষা করুন, জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলুন এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা মেনে চলুন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতাই মশার উপদ্রব কমানোর সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য স্প্রুস
মন্তব্য করুন









