লালমনিরহাট সীমান্ত এলাকা জুড়ে চলছে বাঘ আতঙ্ক
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় এখনও বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকে প্রাণীটিকে শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি ও বন বিভাগ। তবে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত প্রাণীটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আর এ কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঘ আক্রমণের আতঙ্ক বেশ জেঁকে বসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা থেকে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ টিমের চার সদস্যসহ লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা ও রংপুরের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে হাতীবান্ধার উত্তর আমঝোল এলাকায় কাজ করছেন।
ঘটনার দিন রাতভর বন্য প্রাণীটিকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টাকালে শত শত টর্চ ও মুঠোফোনের আলো নিয়ে স্থানীয় লোকজন এলাকায় অবস্থান করেন। বিজিবিও ড্রোন ব্যবহার করে প্রাণীটিকে শনাক্তের চেষ্টা করে। পাশাপাশি এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়।
জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা শরিফা বেগম তার হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে ধানক্ষেতের পাশের এলাকায় গেলে তাকে আক্রমণ করে বাঘটি। এসময় ওই নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে এদের মধ্যে বাঘটির আক্রমণে আরও দু’জন আহত হন।
আরও পড়ুনবিজিবি জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে টহল দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতে বাঘটি ঘটনাস্থল ছেড়ে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।
বাঘটি নিরাপদে উদ্ধার এবং আবার লোকালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি এড়াতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগকে বিষয়টি জানানোর পর বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু অব্যাহত রেখেছেন।
কথা হলে লালমনিরহাট জেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, যে স্থানে বাঘটিকে আক্রমণ করতে দেখা গেছে, সেই স্থান পরিদর্শন করে আক্রান্ত মৃত ছাগলের দেহে আঘাতের ধরণ ও গভীরতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রাণীটিকে চিতাবাঘ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন







