ভিডিও শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫২ পিএম

বগুড়ায় বাড়ছে সাইবার অপরাধ, ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি

বগুড়ায় বাড়ছে সাইবার অপরাধ, ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি, ছবি : এআই তৈরিকৃত

স্টাফ রিপোটার : বগুড়ায় বাড়ছে সাইবার অপরাধ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী,  জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা সাইবার বুলিং এর শিকার হচ্ছেন। হয়রানী করা হচ্ছে অনেক প্রবাসীর বধূকেও। প্রায়ই বগুড়া ডিবির সাইবার পুলিশ ইউনিটে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ছে। শুধু ডিবি নয়, সিআইডি পুলিশও সাইবার অপরাধ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সিআইডি বগুড়ার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোতাহার হোসেন বলেন, প্রধানত: ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়ে, ফেসবুক আইডি হ্যাক করে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়, ছবি বা ভিডিও এডিট করে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি, পর্ণোগ্রাফি ছবি দিয়ে আপত্তিকর কনটেন্ট বা ফেক আইডি তৈরি, ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেয়া, হয়রানিমূলক এসএমএস, মেইল বা লিংক পাঠানোসহ বিভিন্ন উপায়ে হয়রানি করা হচ্ছে মানুষকে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ বিষয়ে সিআইডি কয়েকটি মামলা তদন্ত করছে। সাইবার ট্রাইবুনালের নির্দেশে দায়ের করা মামলা সিআইডি তদন্ত করে আসছে। মামলা তদন্ত করে চার্জশিট দেয়া হয় রাজশাহীতে সাইবার ট্রাইবুনালে। সেখানে বিচার হয় এ সব অপারাধীর।

বগুড়া ডিবির সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শামীম বলেন,এক শ্রেণির কিশোর, তরুণ ও যুবক বেশি জড়াচ্ছে এ ধরণের অপরাধে। প্রায়ই ডিবি’র সাইবার ইউনিটে এ ধরণের অভিযোগ জমা পড়ছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে সাইবার অপরাধীকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সিংহভাগই কিশোর,তরুণ ও যুবক। আর যারা হয়রানীর শিকার হচ্ছে তাদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীই বেশি। গ্রেফতারকৃতদের বিচার হচ্ছে রাজশাহী সাইবার ট্রাইবুনালে।

ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়া রশিদ বলেন, বগুড়ায় সাইবার অপরাধ বাড়ছে। তিনি নিজেও এই অপরাধের শিকার। কিন্ত সাইবার অপরাধের বিচার হয় রাজশাহীতে সাইবার ট্রাইবুনালে। এতে তাদের রাজশাহীতে যেতে হয়। রাজশাহীতে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তিনি বগুড়ায় সাইবার ট্রাইবুনাল গঠনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। শুধু তিনিই নন, অন্যান্য ভুক্তভোগীরও চান বগুড়ায় সাইবার ইউনিট গঠন করা হোক।

উল্লেখ্য, রাজশাহীসহ দেশের ৮ বিভাগে সাইবার ট্রাইবুনাল রয়েছে। সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত মামলার বিচারের জন্য দেশের আটটি বিভাগে একটি করে সাইবার ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। আটটি ট্রাইবুনাল হচ্ছে-ঢাকা সাইবার ট্রাইবুনাল, চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইবুনাল, রাজশাহী সাইবার ট্রাইবুনাল, খুলনা সাইবার ট্রাইবুনাল, বরিশাল সাইবার ট্রাইবুনাল, সিলেট সাইবার ট্রাইবুনাল, রংপুর সাইবার ট্রাইবুনাল ও ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইবুনাল।

রাজশাহীর সাইবার ট্রাইবুনালের আওতায় রয়েছে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা। বগুড়া ডিবির সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শামীম আরো বলেন, প্রতারণার অভিযোগে নারীরাই বেশি অভিযোগ করছেন সাইবার ইউনিটে। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারক যুবক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন

এক পর্যায়ে তারা ঘনিষ্ট হয়। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে ওই প্রতারক প্রেমিক তার প্রেমিকা নারীকে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তোলে বা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। পরে সেই ছবি বা ভিডিও  ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় বা অনৈতিক সুবিধা নেয়। এক পর্যয়ে এই সুবিধা না পেলে  নারীর ছবি ইন্টানেটে ভাইরাল করে দিয়ে সম্মানহানি করে ওই প্রতারক।

তখন প্রতারিত নারীরা সাইবার ইউনিটে অভিযোগ দেন। তিনি বলেন, এ ধরণের অভিযোগই এখন বেশি আসছে সাইবার ইউনিটে। এ ছাড়াও একাউন্ট হ্যাক করার বিষয়েও সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে অভিযোগ পেয়ে সাইবার পুলিশ মাঠে নামছে। সেইসাথে এই প্রতারকদের গ্রেফতারও করছে।

জেলা ডিবির ওসি মো, ইকবাল বাহার বলেন,সাইবার অপরাধ দমনে ২০১৮ সাল থেকে কাজ শুরু করে বগুড়া ডিবি’র সাইবার পুলিশ ইউনিট। তিনি বলেন, ফেসবুক বা অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণার শিকার নারীরাই বেশি অভিযোগ নিয়ে আসছে সাইবার ইউনিটে। তাদের পরিচয় গোপন রেখে এবং অনেকের পরিবারকে না জানিয়ে সমস্যা সমাধান করে সাইবার পুলিশ। ফলে অনেকের সংসার রক্ষা হওয়ার পাশাপাশি রক্ষা হয় সামাজিক মান মর্যাদা।

সাইবার অপরাধ নিয়ে তদন্ত করা একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে সাইবার হয়রানিও সমানুপাতিক হারে বেড়েই চলেছে। তবে বেশিরভাগ নারীই জানেন না তা থেকে সুরক্ষার পথ কী? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে যান সাইবার ইউনিটে বা সাইবার ট্রাইবুনালে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরও বলেন, অভিযোগকারীকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। অনেককে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেও হুমকি দেয়া হয়। তখন কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য পুলিশকে দিতে হবে। কারন এগুলো ইচ্ছা করলেই বন্ধ করা যায়না। একটা নিয়মের মধ্যে এসে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাবনা চাটমোহরে বড়াল নদীর সেতুতে সংযোগ সড়কে ধ্বস

১

ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের ডিম খেয়ে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

২

বগুড়ায় বাড়ছে সাইবার অপরাধ, ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি

৩

রংপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার

৪

নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগ মামলা, পুলিশ সদস্য ও স্ত্রী গ্রেফতার

৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আ’লীগের দুই নেতা গ্রেফতার

৬