নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগ মামলা, পুলিশ সদস্য ও স্ত্রী গ্রেফতার
নাটোর প্রতিনিধি: নাটোর শহরে সাত বছর বয়সী এক ছেলে শিশুর ডান হাতের একটি আঙুলের অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে শাকিল হোসেন নামে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওইদিন রাতে শিশুটির বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেফতার দু’জনকে আদালতে পাঠানো হয়। নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান জানান, ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গ্রেফতারকৃত পুলিশ কনস্টেবল নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত। তিনি স্ত্রী ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ওই শিশুর বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। গত বুধবার রাতে বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়।
সেখানে কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সাথে ওই শিশুর ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে কনস্টেবল শিশুটিকে জোর করে তার বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ডান হাতের আঙুলের বিচ্ছিন্ন অংশ নিয়ে কান্না করতে করতে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে।
আরও পড়ুনপরে সে তার মাকে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে। তার মা বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান এবং তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
এদিকে, ঘটনার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন ওই কনস্টেবল। তার দাবি, শিশুটি তার চার বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। এরপর তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ওই বাসা ছেড়ে চলে যান। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়।
পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। তাদের দাবি, ঘরের মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এছাড়া মেঝের এক পাশে শিশুটির আঙুলের বিচ্ছিন্ন একটি অংশও পাওয়া গেছে। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবার করা মামলায় পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন







