পাঁচ-দশজনের স্বার্থে পুরো দলের বদনাম সরকার মেনে নেবে না: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। সরকার বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করে না। টেলিফোন করে কাউকে জামিন দেওয়া বা জামিন না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কৌঁসুলিরা আইন অনুযায়ী জামিনের বিরোধিতা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, পাঁচ-দশজন ব্যক্তির স্বার্থে পুরো দলের বদনাম সরকার মেনে নেবে না। নিজের দলের কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রূপসা ঘাটে যাত্রী ও মালামাল পারাপারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং রূপসা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাতে গোনা কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি কিংবা গডফাদারের কর্মকাণ্ডের দায় সরকার নেবে না। নিজের দলের কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুনরূপসা ঘাটের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, নদী পারাপারের পর যাত্রীদের ব্যাগ পারাপারের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জেলা প্রশাসককে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে পরদিন থেকেই ঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
রূপসা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মহাদুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ ৯৫ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে দেখিয়ে চতুর্থ দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। অথচ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকা।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো মামলায় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় মৃদু আপত্তি জানালে কিংবা আপত্তি না তুললে বিষয়টি তথ্য-প্রমাণসহ সংবাদে তুলে ধরতে হবে। সাংবাদিকেরা তথ্য দিলে এবং সংবাদ প্রকাশ করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।
সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, এমপি আজিজুল বারী হেলাল, এমপি আমির এজাজ খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা ওয়াসার প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান মনি, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক




_medium_1789377792.jpg)
_original_1788085296_original_1788258204_original_1788690820_original_1788779335_original_1789037453_medium_1789371330.jpg)
_medium_1789376328.jpg)
_medium_1789383747.jpg)