ভিডিও শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:২৬ পিএম

আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ : মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চেয়েছে দুদক

আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ : মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চেয়েছে দুদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে চাহিদাকৃত নথিপত্র ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে যেসব নথিপত্র চাওয়া হয়েছে

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সকল নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকমূলে বদলি সংক্রান্ত সত্যায়িত ছায়ালিপি, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়ন সংক্রান্ত নথিপত্র এবং ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদী জেলায় কর্মরত নির্দিষ্ট সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথি।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

গতকাল দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর সদস্যরা হলেন, সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।

আরও পড়ুন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদে পদায়নের আদেশ দিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার নাম করে আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং তাদের পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য লেনদেন হয়েছে আরও ২ কোটি টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। কেবল বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্যই নয়, যুব উন্নয়নের সকল ধরনের কেনাকাটা ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অভিযুক্তরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগে ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা ছাড়াও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমীর (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) এবং আলী হোসেনসহ (নরসিংদী) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল (বুধবার) সংবাদ সম্মেলন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

দুদকের অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ মাহমুদ বলেন, পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কারণ উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়ন বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে মন্ত্রীর অনুমোদন লাগে না। সচিবের মাধ্যমেই এ পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া হয়। পিএসসির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মেধা তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব সচিবের। এখানে আইনি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে। বাস্তবতা উদ্ঘাটনের স্বার্থে যেকোনো তথ্য-উপাত্ত বা নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরিয়ার কাছেও হারলো অনূর্ধ্ব-২০ দল

হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ট্রাভেল এজেন্সি মালিক, নারীসহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি নির্দেশনা

ছয়দিন বিদ্যুৎ-পানিবিহীন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের নূরজাহানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রংপুরে আইনশৃঙ্খলা,দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে  কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ার আদমদীঘিতে ১৬৭৫ বস্তা সার জব্দ, গুদাম সিলগালা ও ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা