ভিডিও শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৬ পিএম

ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে জীবনযাত্রায় বিপর্যয়, এ অবস্থা চলবে মাসের শেষ পর্যন্ত

ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে জীবনযাত্রায় বিপর্যয়, এ অবস্থা চলবে মাসের শেষ পর্যন্ত

স্টাফ রিপোর্টার : ভাদ্র মাসের রোদের তাপ ও অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বগুড়াসহ সারা দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি। এখন প্রায় সারা দেশেই ৩২-৩৬ ডিগ্রি (সেলসিয়াস) তাপমাত্রা। এ অবস্থার মূল কারণ হচ্ছে এখন বৃষ্টি নেই।

দক্ষিণমুখি বাতাস বইছে। শরীর ঘামছে। সহজে শুকাচ্ছে না।  আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বগুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তার আগের দিন ছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ মাসের  ৩০ তারিখ পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস।

এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় শুধু মানুষই নয়, হাঁসফাঁস করছে পশুপাখিও। দিন কিংবা রাত কোনো সময়ই স্বস্তির দেখা মিলছে না। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের ঘরে থাকলেও চরম আর্দ্রতার কারণে বাস্তবে গরমের অনুভূতি হচ্ছে প্রায় ৩৭-৩৮ ডিগ্রি বা তার চেয়েও বেশি। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বর্তমানে ৮০ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করছে।

দুপুরবেলা এই আর্দ্রতা ৬০ শতাংশের ওপরে থাকলেই তা তীব্র গরমের অনুভূতি তৈরি করে। বাতাস থেকে নির্গত সুপ্ত তাপ এবং ধীরগতির বাতাস পরিস্থিতিকে আরও দমবন্ধকর করে তুলেছে। প্রচন্ড গা ঘামা গরমে দরদর করে ঘামছিলেন পঞ্চাশোর্ধ আজিজুল।  বেলা ১১ টায় জলেশ্বরী তলা এলাকায় যাত্রী নিয়ে চলছিলেন আর হাত দিয়ে মুখ মুছছিলেন। বলেলেন, সকাল থেকে রিকশা  চালিয়ে  পেয়েছেন  মাত্র  ২০০ টাকা।

একবার যাত্রী নামিয়ে দিয়ে একটু ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে আবার চলতে হচ্ছে। বার বার পানি পিপাসা লাগছে। আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্ষাকালে টানা ৩ থেকে ৭ দিন ভারী বর্ষণ না হলে পরিবেশ ঠান্ডা হতে পারে না। মেঘ থেকে আসা জলকণার ধনাত্মক তাপমাত্রা এবং আর্দ্র বাতাসের সুপ্ত তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে গুঁড়ি গুঁড়ি বা এক-দুই পসরা বৃষ্টি হলে গরম না কমে উল্টো পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার ওপর স্বাভাবিকের চেয়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ৮-১২ কিমি কম থাকায় বাতাস স্থবির হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

গ্রামের চেয়ে শহরের গরমের তীব্রতা বেশি এর কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় উচ্ছেদ ও দ্রুত গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে গ্রামের চেয়ে শহর এখন রূপ নিয়েছে একটি তপ্ত দ্বীপে। কলকারখানা, যানবাহন এবং বাসাবাড়ির এসি ও রেফ্রিজারেটর থেকে নিঃসৃত অতিরিক্ত তাপ শহরের বাতাসকে প্রতিনিয়ত আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।  

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের ওয়্যারলেস অপারেটর  রবিউল ইসলাম জানান, বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকায় এই পরিস্থিতি থেকে সহজে স্বস্তি মিলবে না। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৬টায়  আদ্রাতা ছিল ৯৪, সন্ধ্যা ৬ টায় ছিল ৬৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

এ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত মাঝে মাঝে  আকাশ মেঘলা ও  ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বাতাসে আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকায় পুরোপুরি ভ্যাপসা গরম কাটতে আকাশ পুরোপুরি মেঘাচ্ছন্ন হয়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাত শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তির কোনো লক্ষণ দেখছেন না তারা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে জীবনযাত্রায় বিপর্যয়, এ অবস্থা চলবে মাসের শেষ পর্যন্ত

অবাধ তথ্যই দিতে পারে দুর্নীতি মুক্ত দেশ- বগুড়া সিটি প্রশাসক স্বাধীন

দিনাজপুরের কাহারোলে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক ৪

নওগাঁর বদলগাছীতে পেট্রোল ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ গ্রেফতার ১

বগুড়া সাতমাথায় সিটি প্রশাসনের অভিযান

সিরাজগঞ্জে অর্ধশতাধিক হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকের কাছে হস্তান্তর