অবাধ তথ্যই দিতে পারে দুর্নীতি মুক্ত দেশ- বগুড়া সিটি প্রশাসক স্বাধীন
স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে। কারণ অবাধ তথ্যই দিতে পারে একটি দেশের সুশাসন। আর সুশাসনই সরকারের সকল কর্মকান্ডের সচ্ছতা আনে,দুর্নীতি কমায়। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থেকে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন একথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ।
তারা চাইলে সেই দর্পণকে আলোকিত করতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকরা যদি ইচ্ছা করে একটি অপতথ্য বা অসত্য বারবার প্রচার করেন, তাহলে সেটি একসময় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতে পারে।” নওগাঁ জেলার সাংবাদিকদের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাক’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) বগুড়ার মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
প্রধান অতিথি এম আর ইসলাম স্বাধীন আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার এবং যে কোনো দলের গঠনমূলক সমালোচনা করার পূর্ণ সুযোগ সাংবাদিকদের রয়েছে। তবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রকাশ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অত্যন্ত জরুরি। সাংবাদিকরা তথ্যের সঠিকতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
আরও পড়ুনবগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাগত দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। মফস্বল সাংবাদিকদের মেধা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই ধরণের আধুনিক প্রশিক্ষণ যুগোপযোগী ভূমিকা রাখবে এবং এর ফলে হলুদ সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে।
ডিবিসির সিনিয়র রিপোর্টার মোহন আখন্দের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গাকের সিনিয়র পরিচালক ড. মো. মাহবুব আলম, অংশগ্রহণকারী চ্যানেল নাইন নওগাঁর প্রতিনিধি রিফাত হোসেন সবুজ, চ্যানেল আইয়ের কায়েস উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফি মাহমুদ বিদ্যুৎ, উপপরিচালক মোহাম্মদ আরমান হোসাইন।
সমাপনী বক্তব্যে গাক-এর নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার আলমগীর হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত বিষয়গুলো সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। অসত্য ও দুর্বল সংবাদ প্রকাশ থেকে দূরে থেকে সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
দুইদিনব্যাপী কর্মশালার শেষদিনে প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফি মাহমুদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আব্দুল কাইউম, যমুনা টেলিভিশনের বগুড়া ব্যুরো প্রধান মেহেরুল হাসান সুজন এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নওগাঁর সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
মন্তব্য করুন







