ভিডিও সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৭ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা বিএনপি সরকারের ঘাড়ে

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা বিএনপি সরকারের ঘাড়ে

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল বিজয়ের পর চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করে। এ দিন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সোমবার বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। 

এই ছয় মাসে সরকারকে প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকা নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জমে থাকা নানা সংকটেরও বোঝাও বহন করতে হচ্ছে। গ্যাস- বিদ্যুতের ঘাটতি, হাম টিকার সংকট, শিক্ষা খাতের অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা ও মব সহিংসতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের অনিশ্চয়তাসহ একাধিক খাতে আগের সময়ের দুর্বলতা এখন এসে উঠেছে বর্তমান সরকারের ঘাড়ে। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপি সরকারকে একদিকে তাৎক্ষণিক সংকটগুলো সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যার সমাধানের পথও খুঁজতে হচ্ছে। ছয় মাসে সরকারের ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি চাপের বড় একটি অংশই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ব্যর্থতার ফল হিসেবে সামনে আসছে।

সবচেয়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ একপর্যায়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। মোট গ্যাস সরবরাহও দৈনিক চাহিদার তুলনায় কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও জনজীবনে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নতুন নিয়ম করা হয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জালানি খাতে সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমার সঙ্গে এলএনজিনির্ভরতা বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিও তৈরি হয়নি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিতর্কিত বিশেষ বিধান বাতিল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা পুনর্বহালের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও জনগণ ও শিল্পের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা তৈরি করা যায়নি। এখন সেই ঘাটতির মূল্য দিতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে।

দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাবে-এটি পেট্রোবাংল আগেই জানত। পেট্রোবাংলার হিসাব ছিল, গত জুলাইয়ে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন চার বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাবে। এই ঘাটতি পূরণ করতেই এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এদিকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির আরেকটি টার্মিনালও আগামী বছর চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই টার্মিনালের চুক্তিও অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে। ফলে গ্যাসের ঘাটতি আরও বেড়ে যায়।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি ২১ জুলাই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এটি বন্ধের পর গ্যাস সরবরাহ শূন্য হয়ে গেছে। এটি গত ১৫ আগস্ট চালু করা হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকরার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি। আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। ফলে সহসায় গ্যাস সংকট কাটছে না-এমনটাবলাই যায়।

স্বাস্থ্য খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুতর উদাহরণ হয়ে উঠেছে হাম টিকার সংকট। ইউনিসেফ জানিয়েছে, টিকা সংকট ও সম্ভাব্য হাম প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সর্বস্ত বিভিন্ন চিঠি ও বৈঠকে সময়মতো টিকা অর্ডার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছিল। এরপরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকার সঠিকভাবে সংস্থান না করায় পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের সময় টিকা সরবরাহে সংকট তৈরি হয়।

এ সংকটের পরিণতিতে ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশের ৬৪০ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণের খবর পাওয়া যায় আক্রান্তদের বড় অংশ ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত সরকারকে ইউনিসেফ, বিশ স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির সহযোগিতায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচিত নিতে হয়। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকা সংকট আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও কেন ঠেকানো গেল না এ প্রশ্ন এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এদিকে, হাম ও এর উপসর্গে প্রতিদিনই একাধিক শিশু মারা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মৃতু ৯০০ ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসন যথাযথভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এমন মূল্যায়নও সামনে এসেছে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার কারণে মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন

মব সংস্কৃতির প্রভাব শুধু অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকেও দুর্বল করে। মানুষ যখন আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে জনতার হাতে তাৎক্ষণিক বিচারকে কার্যকর মনে করতে শুরু করে, তখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিএনপি সরকারকে এখন শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও জনআস্থাও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হচ্ছে। ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থাৰে পর পুলিশসহ অন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীতে জরুরি সংস্কারের কথা হয়েছেলি। কিন্তু পুলিশের পোশাক পরিবর্তন ছাড়া তেমন কিছুই করে যায়নি অন্তর্বর্তী সরকার।

শিক্ষা খাতেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কারের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংকটের দৃশ্যমান সমাধান হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পরিমাপ এবং বৃত্তি পরীক্ষার মতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও সামগ্রিকভাবে শেখার ঘাটতি, ঝরে পড়া এবং বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সংস্কারের ফল দ্রুত দৃশ্যমান না হওয়ায় বর্তমান সরকারকে এখন নতুন করে শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে। শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধারাবাহিকতার ঘাটতি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার কতটা কার্যকর ছিল এবং কতটা বাস্তবায়নযোগ্য ভিত্তি তৈরি করে গেছে-সেটিও এখন প্রশ্নের বিষয়। একটি সরকারের সময়ে নেওয়া উদ্যোগের বাস্তব ফল যদি পরবর্তী সরকারের সময়ে এসে দেখা না যায়, তাহলে সেই সংস্কারের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। ফলে শিক্ষা খাতে সময় নষ্ট হওয়ার দায়ও বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়ছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। নোবেল জয়ী ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের কাজ করতে পারবে বলে প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নতুন বিনিয়োগের গতি তৈরি হয়নি। নীতিগত অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখন বিএনপি সরকারকে একদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চাপও সামলাতে হচ্ছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের নিট এফডিআই ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর তথ্য থাকলেও দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনের তুলনায় এই বিনিয়োগ এখনও সীমিত। তাই শুধু বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে বলেই অন্তর্বর্তী সরকারের বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এমন দাবি করা যায় না। বিনিয়োগকারীদের শুধু কর সুবিধা বা অর্থনৈতিক অঞ্চল দিলেই হয় না। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রুত প্রশাসনিক সেবা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশও দরকার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি।

ছয় মাস পূর্তিতে বিএনপি সরকারের সামনে তাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো ক্ষমতায় এসে অতীত সরকারের ব্যর্থতার 'বোঝা' কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু গ্যাস সংকট থাকলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়, বিদ্যুৎ ঘাটতি হলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, টিকার ঘাটতি হলে শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ে, আইনশৃঙ্খলা দুর্বল হলে মানুষের নিরাপত্তা কমে এবং বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়। এসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান এখন বর্তমান সরকারের কাছেই প্রত্যাশা করছে মানুষ।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পরও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর সংকট সমাধানের স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন বিএনপি সরকারের সামনে কাজ দুটি। একদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমে থাকা সংকট দ্রুত সামাল দিতে হবে, অন্যদিকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। গ্যাসের ক্ষেত্রে দেশীয় অনুসন্ধান ও এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য খাতে টিকা সরবরাহের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা, শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, আইনশৃঙ্খলায় রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, সব ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম আকতার সিদ্দিক দৈনিক করতোয়াকে বলেন, 'বিএনপি সরকার একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জ্বালানি খাতের সংকট তীব্র ছিল। একইভাবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে হাম পরিস্থিতি প্রকট হয়। এসব সংকটের পুরো দায় বর্তমান সরকারের ওপর দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও স্থায়ী সমাধানের ভিত্তি কতটা রেখে গেছে, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। বিএনপি সরকার সংকট মোকাবিলায় চেষ্টা করছে; তাদের সময় দেওয়ার পাশাপাশি জনগণকেও সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে হবে।'

ছয় মাসে বিএনপি সরকার যে নানা চাপের মুখে পড়েছে, তার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অব্যবস্থাপনার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব সমস্যা এখন বর্তমান সরকারের দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের কাছে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাবও হবে বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে। ফলে আগের সরকারের রেখে যাওয়া সংকটের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াটাই বর্তমান সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব সমস্যা কত দ্রুত সমাধান করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া যায়, সেটিই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা বিএনপি সরকারের ঘাড়ে

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

নাটোরের বড়াইগ্রামে দৈনিক করতোয়ার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার আবাসিক এলাকায় ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন