মা মাছ রক্ষায় হাওরে হচ্ছে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
হাওর, বিল, নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মিঠা পানির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন এলাকায় বড় গর্ত ও খাঁড়ি তৈরি করে সেগুলো সংরক্ষিত রাখা হবে। এসব স্থানে মা মাছের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে পাহারাদারের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী মৌসুম থেকেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এ জন্য পরিকল্পনা ও বাজেট এরই মধ্যে করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একসময় হাওর, বাওড়, নদী ও বিভিন্ন জলাশয়ের দেশিয় মাছের ওপর মানুষের খাদ্যের বড় একটি অংশ নির্ভর করত। তখন চাষের মাছের প্রচলন ছিলো না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও সার ব্যবহারের পাশাপাশি মা মাছের প্রজননক্ষেত্রগুলো নষ্ট হওয়ায় দেশিয় মিঠা পানির মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন কমে গেছে। মা মাছের অভয়াশ্রম প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। যার কারণে প্রাকৃতিক মিঠা পানির মাছ এখন বিলুপ্তির পথ।’
তিনি আরও বলেন, আগে হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন ডোবা বা খাঁড়িতে মা মাছ আশ্রয় নিত। এখন সেসব জায়গার মাছও ধরে ফেলা হয়। ফলে মাছের প্রজননের জন্য নিরাপদ স্থান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে বড় গর্ত ও খাঁড়ি তৈরি করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব জায়গা মা মাছের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে পাহারাদারের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে অন্যত্র মাছ ধরা হলেও অভয়াশ্রমের মাছ ধরা না যায়।
আরও পড়ুনমোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘মা মাছের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা গেলে প্রজননের সুযোগ বাড়বে। এতে ডিমের পরিমাণ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে দেশিয় মাছের উৎপাদনও বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পরিদর্শন আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর উপলক্ষে শনিবার সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার থানারঘাট-বাহাদিয়া এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদ এবং কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া), মো. জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1786196863.jpg)


_medium_1786195150.jpg)



