ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হামলার শিকার, পুলিশসহ আহত ৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ওরসে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগের ভাড়া পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চার পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় জেনারেটর ব্যবসায়ীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ এবং মাজার কার্যালয়ের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের শাহ রাহাত আলী হাইস্কুল মাঠ ও মাজার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল এমদাদুল হক, ফরহাদ, সাইফুল ও মোবারক। এছাড়া আহত হয়েছেন জেনারেটর ব্যবসায়ী রেজন মিয়া। আহতদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হজরত শাহ রাহাত আলীর (রহ.) বার্ষিক ওরস উপলক্ষে আয়োজিত ‘ভূতের জাদু খেলা’ প্রদর্শনের জন্য শ্রমিক দলের স্থানীয় নেতা মামুন মিয়া জেনারেটর ব্যবসায়ী রেজন মিয়ার কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করায় রেজন মিয়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় মদ্যপ অবস্থায় থাকা আল আমিন ও মামুন জেনারেটরের পাশে উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে দায়িত্বে থাকা আরআরএফ সদস্য কনস্টেবল এমদাদুল হক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দাবি, এরপর মামুন, আল আমিন, কাউসার, রাজিব, সোহেল, শীতল, ফারুক মিয়াসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল শাহ রাহাত আলী হাইস্কুলের দিক থেকে ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করে। পরে তারা মাজার অফিসের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্যে অফিসের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
খবর পেয়ে থানা পুলিশের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের দিকেও তেড়ে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুনঅপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেনারেটর ব্যবসায়ী রেজন মিয়া বলেন, মামুন আমার কাছ থেকে জেনারেটরের সংযোগ নিয়েছিল। কিন্তু ভাড়া না দেওয়ায় আমি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে বাঁচাতে পুলিশ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মামুন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লিটন আব্দুল্লাহ বলেন, সকাল ৬টার দিকে চার পুলিশ সদস্যকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। একজনের মাথায় আঘাত ছিল, তবে সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়নি। আরেকজন বুকে ব্যথা অনুভব করায় এক্স-রে করা হয়েছে। অন্য দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ওরসে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1785752826.jpg)




_medium_1785749737.jpg)


