নওগাঁয় প্রথম সুস্বাদু ও সুমিষ্ট আনারস চাষ
নওগাঁ প্রতিনিধি : বরেন্দ্র জেলা নওগাঁয় আমবাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সাথী ফসল হিসেবে সুমিষ্ট আনারস চাষ শুরু হয়েছে। এতে করে ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেলার পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলার মাটি দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় আনারস চাষ এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমগাছের মাঝে ফাঁকা জায়গাগুলোতে এমবি-২ ও হানিকুইন জাতের আনারস চাষ হচ্ছে। চারা রোপণ থেকে ফল আসতে ১৫-১৮ মাস সময় লাগে।
অল্প জমিতে দুই ফসল পাওয়ায় কৃষকদের আয় ও জমির ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলন ভালো হওয়ায় জেলার স্থানীয় জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আনারস সরবরাহ হচ্ছে। কম খরচে একবার চারা লাগিয়ে টানা কয়েক বছর ফলন পাওয়া যায়। এখানকার আনারস অত্যন্ত মিষ্টি ও স্বুসাদু। এ জেলায় প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে সফল হয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্ত রায়হান সিদ্দিক।
পোরশার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান সিদ্দিক বলেন, ২০২৪ সালের জেলার বদলগাছী হার্টিকালচার থেকে ৩ হাজার পিস আনারসের চারা বর্ষার সময় রোপণ করা হয়। এরপর আর সেচ দিতে হয়নি। শুরু থেকে গাছের আগাছা পরিস্কার ও দুই-একবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। কোন প্রকার খরচ ছাড়া এসব আনারস ধরেছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছেন।
আরও পড়ুনআরও প্রায় ১ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করবেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে একই জমিতে আম ও আনারস চাষ করা যাচ্ছে। খরচ নাই বললেই চলে। আর খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও বড় পরিসরে আনারসের বাগান করবো।
আমরা টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আনারস কিনে এনে এই জেলার চাহিদা পূরণ করে থাকি। আমের রাজধানীতে আনারসের চাষ হলে নিজেদের উৎপাদিত আনারস দিয়েই জেলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বরেন্দ্র জেলা নওগাঁয় সুমিষ্ট আম গাছের সাথে সাথী ফসল হিসেবে আনারস চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
পোরশা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামিরুল ইসলাম বলেন, আমবাগানে সাথী ফসল হিসেবে যে সুমিষ্ট আনারস চাষ যায় তার উজ্জল দৃষ্টান্ত রায়হান সিদ্দিক। তিনি জেলায় প্রথম আমবাগানের ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে আনারসের চাষ করেছেন। তার বাগানের গাছের গ্রথ ভালো হয়েছে। ফলগুলো ভালো হয়েছে। এভাবে যদি জেলায় আমবাগানের পাশাপাশি আনারস চাষ করা যায় তাহলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক নতুন দ্বার উম্মোচিত হবে।
মন্তব্য করুন







