ভিডিও রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৯ পিএম

বগুড়ার সাতমাথাকে ঘিরে অপরাধীদের দৌরাত্ম

বগুড়ার সাতমাথাকে ঘিরে অপরাধীদের দৌরাত্ম

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া মহানগরীর সাতমাথা ও তার আশপাশ এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য। চোর, ছিনতাইকারী, টানা পার্টি ও ‘শয়তানের নিশ্বাস’ প্রতারক পার্টিসহ সব ধরণের অপরাধী এই এলাকায় সক্রিয়।

প্রায়ই এই অপরাধী চক্রের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। খোয়া যাচ্ছে টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল। মাঝে-মধ্যে পুলিশ দু’একজনকে গ্রেফতার করলেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। ধারাবাহিকভাবে এ ধরণের অপরাধ ঘটেই যাচ্ছে।

মহানগরীর পশ্চিম কৈগাড়ী এলাকার বাসিন্দা কোহিনুর বেগম (৪৯) জানান, গত ২ জুলাই দুপুর ১টার দিকে সাতমাথায় সপ্তপর্দী মার্কেটের সামনে থেকে রাস্তা পার হওয়ার সময় ৫-৬ জনের খপ্পরে পড়েন তিনি। এই দলে সবাই ছিল নারী। এসময় ওই চক্রের এক নারী  অসুস্থতার ভান করে তার সামনে এসে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার অভিনয় করে।

আরো দুই নারী তার শরীরে ধাক্কা দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করে ‘চোখের পলকে তার গলা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকামূল্যের ৮ আনা সোনার একটি চেইন ছিঁড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার চেইনটি না পেলে তিনি বগুড়া সদর থানায় একটি অভিযোগ করেন। এই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই সোলায়মান আলী বলেন, এই চেইন ছিনতাই ঘটনায় জড়িত সবাই নারী। তাদেরকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই নারী ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে সাতমাথাসহ আসে পাশের এলাকায় স্থাপিত বিভিন্ন ভবনের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে এর কিছুদিন আগে ভোররাতে ঢাকা থেকে বাসযোগে ফেরার পর সাতমাথায় নেমে এক ব্যক্তি ‘শয়তানের নি:শ্বাস’ চক্রের খপ্পরে পড়েন। এরপর চক্রের সদস্যরা তাকে মোহবিষ্ট করে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়।

আরও পড়ুন

শুধু এই দুটি ঘটনা নয়, গত ৩ মাসে আরো কয়েকটি এধরণের ঘটনা ঘটেছে সাতমাথা ও তার আশপাশ এলাকায়। ভুক্তভোগীরা জানায়, সাতমাথা এলকায় সব সময় তৎপর থাকে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র। এছাড়া এলাকাটিকে কেন্দ্র করে টানাপার্টি, ধাক্কাপাটি, থুথু পার্টি ও অজ্ঞানপার্টির সদস্যরাও সক্রিয়। সাতমাথায় রাস্তা পারাপারের সময় বেশি পকেটমার ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে।

ভিড়ের মধ্যে সতর্কতার সাথে যখন রাস্তা পার হয় পথচারী তখন পিছু নেয় পকেটমার। যানজটের মধ্যে সুযোগ বুঝে তারা পকেট কেটে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয় বেশি। এছাড়া যানজটের মধ্যে চলন্ত যানবাহন থেকে মালামাল টেনে নিয়ে পালিয়ে যায় টানাপার্টির সদস্যরাও।

এছাড়া সাতমাথা এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনাও বেশি। জিরো পয়েন্টে বীর শ্রেষ্ঠস্কয়ারে বসে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে ছিন্নমূল শিশু-কিশোররা। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতমাথা কেন্দ্রীক বেশি অপরাধে যুক্ত আছে মহানগরের উত্তর চেলোপাড়ার সান্দারপট্টি থেকে আসা মাদকাসক্ত কিশোর-যুবক, নারী ও বৃদ্ধ। মাঝে-মধ্যে তাদের কেউ কেউ জনতার হাতে ধরাও পড়ে এবং গণপিটুনি খায়। সেই সাথে পুলিশও তাদেরকে গ্রেফতার করে।

এব্যাপারে বগুড়া সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জামিরুল ইসলাম বলেন, সাতমাথায় পকেটমার, ছিনতাইকারী ও টানাপাটির  তৎপরতারোধে তার ফাঁড়ির পুলিশ সজাগ রয়েছে। অপরাধীদের ধরতে সেখানে পুলিশের একটি টিম সব সময় ডিউটি  করে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মো. ইব্রাহীম আলী বলেন, সাতমাথায় যারা অপকর্মে জড়িত তাদের বেশিরভাগের বাড়ি উত্তর চেলোপাড়া সান্দারপাট্টিতে। তাদেরকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। গত একমাসে চাকুসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা বিধানে সাতমাথা ও অন্যান্য এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সাতমাথাকে ঘিরে অপরাধীদের দৌরাত্ম

ভাড়া বাসায় আটকে রেখে তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে থানায় মামলা

জবি শ্রী চৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের নেতৃত্বে অজয়-বাঁধন

বগুড়ায় দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনের উদ্বোধন করলেন এমপি বাদশা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আমন ধান রোপণ শুরু

বগুড়ায় মোটরসাইকেল বাহিনী ছিনতাইকারীদের কবলে মোটরসাইকেল আরোহী