ভিডিও শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৯:২৩ পিএম

সময় মতো খাবার না খেলে শরীরে যেসব সমস্যা হয়

সময় মতো খাবার না খেলে শরীরে যেসব সমস্যা হয়, ছবি : সংগৃহীত।

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বর্ষাকালে পেটের সমস্যা, গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের অভিযোগ অনেকেরই বেড়ে যায়। তবে এমনও অনেক মানুষ আছেন, যাদের সারা বছরই হজমের সমস্যা লেগেই থাকে। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, শুধু তেল-ঝাল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণেই এসব সমস্যা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি শুধু কী খাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে না, কখন খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মানবদেহ একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম মেনে কাজ করে। ঘুম, হরমোন নিঃসরণ, বিপাকক্রিয়া থেকে শুরু করে পরিপাকতন্ত্রও এই ছন্দ অনুসরণ করে। তাই প্রতিদিন খাবারের সময় বারবার বদলে গেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটে। ফলে বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা অম্বলের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করে
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে পাকস্থলী ও অন্ত্রও সেই সময় অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করে। ঠিক সময়ে পাচক রস ও পিত্তরস নিঃসৃত হয়, ফলে খাবার সহজে ভেঙে হজম হতে পারে। এতে গ্যাস, অম্বল এবং পেট ভার লাগার মতো সমস্যার ঝুঁকিও কমে।

বিপাকক্রিয়া বেশি কাজ করে
দিনের বেলা শরীরের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকে। তাই সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার ঠিক সময়ে খেলে শরীর সহজেই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু দুপুরের খাবার দেরিতে খাওয়া বা রাত গভীর করে ভারী খাবার খেলে হজম ধীর হয়ে যায়। কারণ সন্ধ্যার পর শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে
যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে বা অনিয়মিত খাবার খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা হতে পারে। নিয়মিত একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস ইনসুলিনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে, যা হজম ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুই বেলার খাবারের মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি থাকলে অন্ত্রে মাইগ্রেটিং মোটর কমপ্লেক্স (এমএমসি)নামে একটি স্বাভাবিক পরিষ্কার প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এটি অন্ত্রে জমে থাকা খাবারের অবশিষ্টাংশ ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। কিন্তু সারাক্ষণ অল্প অল্প করে কিছু না কিছু খেতে থাকলে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি দেখা দেয়।

আরও পড়ুন

অন্ত্র সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস জরুরি
সকালের নাস্তা কখনো বাদ না দেওয়া। ঘুম থেকে ওঠার কিছু সময়ের মধ্যেই পুষ্টিকর নাস্তা খেলে পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় হয়।
দুপুরের খাবার দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে খাওয়ার চেষ্টা করা। এই সময় হজমক্ষমতা সাধারণত সবচেয়ে ভালো থাকে।
রাতের খাবার সম্ভব হলে রাত ৮টার মধ্যে শেষ করা এবং ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।দুই বেলার প্রধান খাবারের মাঝে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টার বিরতি রাখুন। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিষ্কার প্রক্রিয়া ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

সুস্থ পরিপাকতন্ত্রের জন্য শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই হবে না, সঠিক সময়েও খেতে হবে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস হজম ভালো রাখতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে আপনার সামগ্রিক সুস্থতার জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

 

সূত্র: ইটিংওয়েল, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সময় মতো খাবার না খেলে শরীরে যেসব সমস্যা হয়

বন্যার্তদের সহায়তায় চারুকলায় নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’

নাটোরের সিংড়ায় কচুরিপানায় লুকিয়েও রক্ষা হয়নি, দুই ডাকাতকে আটক করলো গ্রামবাসী

বগুড়া মহানগরে জামিলনগর মহল্লার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতায় ফিরল টাইগাররা

বিশ্বকাপ জয়ীদের বিশেষ আংটি দেবে ফিফা