বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গণ ধর্ষণের শিকার নারীসহ গ্রেফতার ৪, পাল্টাপাল্টি মামলা
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পাল্টাপাল্টি মামলায় গণ ধর্ষণের শিকার নারীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮০ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ তার মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর বিরুদ্ধেও বগুড়া সদরের সাবগ্রাম মাস্টার পাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জ্যোতি খাতুন (২৬) মানব পাচারের অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। দুই মামলার ভিত্তিতে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীসহ ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে সারিয়াকান্দি থানার পুলিশ।
গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাবার মামলা সূত্রে জানা গেছে, জ্যোতি খাতুনের বাসার পাশে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী বসবাস করতেন। এ সুবাদে তার বোন জুঁই খাতুনের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জুঁই খাতুনকে সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের চর হরিণা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে রিপন মিয়ার (২৭) সাথে বিয়ে দেয়া হয়। মাঝে মাঝেই জুঁই স্বামীর সাথে ঝগড়া করে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর কাছে চলে আসতো। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জুঁই খাতুন ধর্ষণের শিকার নারীকে জানায় যে সে তার স্বামীর অত্যাচারে বাড়িতে থাকতে পারছে না।
এ কথা শুনে ধর্ষনের শিকার নারী জুঁইকে সারিয়াকান্দি ফুলবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে আসতে বলে এবং সে আতিকুল ইসলাম (২৮) নামের একজন সিএনজি অটোচালককে নিয়ে ফুলবাড়ি স্ট্যান্ডে চলে আসে জুঁইকে সাথে নিয়ে আসতে। পরে জুঁইকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে বগুড়া রওনা দেয়ার সময় জুঁইয়ের স্বামী রিপন মিয়া ও তার গ্রামের ভিক্ষু মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান গিট্টু (২৮), মুক্তার আলীর ছেলে আবু রায়হান (২৪) এবং মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল করিম (২৪) তাদের জোরপূর্বক পথরোধ করে তাদের নিজের গ্রামে নিয়ে যায়। এরপর চর হরিণা পুকু মিয়ার বাড়িতে তাদের বেধড়ক মারপিট করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।
পরে ওই নারীকে রিপন মিয়াসহ উল্লেখিত ৪ জন আসামি জোরপূর্বক পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। পরের দিন সকাল ৯ টার দিকে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী এবং সিএনজি চালক আতিকুল ইসলামকে চিকিৎসার সারিয়াকান্দি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশের হেফাজতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আরও পড়ুনএদিকে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ এনে জ্যোতি খাতুন মামলায় উল্লেখ করেন, গণধর্ষণে শিকার ওই নারীর সাথে তার বোন জুঁই খাতুনের সমকামিতার সম্পর্ক বিরাজমান ছিল। সমকামিতার সম্পর্ক টিকে রাখতে তার বোন বারবার তার স্বামীকে ছেড়ে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর কাছে চলে আসতো। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ওই নারী জুঁই খাতুনকে পতিতাবৃত্তি করাতে সিএনজি চালক আতিকুল ইসলামকে সাথে নিয়ে তাকে প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
পরে তারা জানতে পেরে তাদের ফুলবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে এসেছিল এবং পরের দিন তাদের সারিয়াকান্দি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে গণধর্ষণের শিকার নারীকে সুরক্ষা না দিয়ে গ্রেফতার করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ ব্যপারে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে মানবপাচার এবং গণধর্ষণের বিষয়ে ২ টি মামলা থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। মানবপাচার মামলার আসামি হিসেবে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী এবং সিএনজি চালক আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অপরদিকে গণধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে রিপন মিয়া এবং আতিকুর রহমান গিট্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বগুড়া জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাগুলো তদন্তানাধীন রয়েছে। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আসল ঘটনা উদঘাটন করতে পুলিশের তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন








