বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে হামলা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোর পর্যন্ত ইরানে দ্বিতীয় দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান আবারও দাবি করেছে যে তারা বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে দেশটির ওপর চালানো হামলার জবাবে করা হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার ভোরে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এ দিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞা তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হবে। খবর রয়টার্সের।
সিজিটিএন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করার পর বৃহস্পতিবার ভোরে উপসাগর ও ওমান সাগরের জলসীমায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইরানের প্রধান সামরিক কমান্ড সদর দপ্তর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনএর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনার কারণে তেহরানকে ‘মূল্য দিতে হবে।’
বিভিন্ন ইরানি শহরজুড়ে এই নতুন মার্কিন হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনার প্রচেষ্টা আবারও অচলাবস্থায় পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছিল। ইরান জোর দিয়ে বলছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং তেলের দাম বাড়িয়েছে।
এই সপ্তাহে এটি তৃতীয়বারের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা, যা দুই মাস ধরে চলা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিকে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তিতে সই করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এই সপ্তাহের শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে। খবর এপির।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








