কক্সবাজার সৈকতে ‘সব ব্যবসায়ী কার্ড’ বাতিল
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া সব কার্ড বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন করে কোনো কার্ড ইস্যু ও নবায়নও করা হবে না। চুক্তি লঙ্ঘন করে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণ করায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে বালিয়াড়ি দখল করে সহস্রাধিক দোকান নির্মাণ করা হয়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৯৩০টি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
উচ্ছেদের কয়েক দিন পর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, উচ্ছেদ করা বালিয়াড়িতে আর কোনো দোকান যেন না বসে, দখল না হয়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক থাকবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা অমান্য করে ঈদুল আজহার ছুটির সময় কতিপয় ব্যক্তি সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে চার শতাধিক দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
আরও পড়ুনদখলদারদের অভিযোগ, তারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে রাজস্ব জমা দিয়ে অনুমতির মাধ্যমে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে , ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা-কলাতলী-লাবণী পয়েন্ট থেকে ৯ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলাম। এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও ছিল। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত (উচ্ছেদ হওয়া) ব্যক্তিরা উচ্চ আদালতে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রিট করেন। আদালত থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটের জবাব দেওয়া হবে আদালতে।’
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া সমস্ত কার্ড বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নতুন করে কোনো কার্ড ইস্যু ও নবায়নও করা হবে না। কারণ অনুমতি পত্রের চুক্তি লঙ্ঘন করে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণ করায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








