বগুড়ায় এনজিও কর্মকর্তা অপহরণ, কী ঘটেছে তার ভাগ্যে? নির্ঘুম রাত কাটছে পরিবারের
স্টাফ রিপোর্টার : দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বগুড়া থেকে অপহৃত এনজিও কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমানকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিসহ এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।
অপহৃত মোখলেছুর সোনাতলা উপজেলার বারঘরিয়া মধ্যপাড়ার মৃত বুদা প্রামাণিকের ছেলে। তবে তার ভাগ্যে কী ঘটেছে, তিনি বেঁচে আছেন না কি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা আজো অজানা। বিষয়টি নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে পরিবারের।
তার বড় ভাই আতাউর রহমান বলেন, তার ছোট ভাই মোখলেছার রহমান (৩৭) বগুড়া সদরে পল্লীমঙ্গল ফোকাস সোসাইটি এনজিওতে ফিল্ড অফিসার হিসাবে চাকরি করে। গত ২৮ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে তার অফিস থেকে তিনি এনজিও’র ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য বের হন। ওই দিন বেলা ২টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭৯০-১৮২৩৮৪ ও ০১৭৩৩-৩৩১২৯১ বন্ধ থাকে।
এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করার এক পর্যায়ে নিখোঁজের দিন রাত ১০টার দিকে বগুড়া সদরের পল্লীমঙ্গল বাজারে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার পাশে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। তবে তার ভাই নিখোঁজই থাকে।
আতাউর রহমান আরো বলেন, পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ০১৩৩৭-৯২৮২৬৮ মোবাইল নম্বর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ০১৭৪৯-৬৫৪৮০৬ নম্বরে ফোন করে জানায় যে, তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে। এখন সে তাদের হেফাজতে আছে এবং তাকে জীবিত অবস্থায় ফেরৎ পেতে হলে মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দিতে হবে। তখন তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইলে অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির ০১৩৩৭-৯২৮২৬৮ মোবাইল নম্বর থেকে তার ভাইয়ের সাথে কথা বলিয়ে দেয়।
আরও পড়ুনকিন্তু কথা বলার পরও তিনি ও তার পরিবারের লোকজন ওই ব্যক্তিদের ম্ুিক্তপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ভাইকে অজ্ঞাত স্থানে আটক করে মারপিটের ভয়ভীতি দেখায় এবং তারা বিকাশ নম্বর ০১৮৩২-৩৫৯৫৯৩ এ টাকা দিতে বলে।
এরপর তিনি ও তার পরিবারের লোকজন ভয়ে তাদের কথামতো ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত অনুমান ৩টার দিকে মোবাইল নম্বর ০১৭৭৩-৭৪৪৭৪৭, ০১৭৫৩-৮০৮০২৬, ০১৭২৬-০৮৫১১৭, ০১৯৫৮-৪২৬৭৮১, ০১৯৫৮-৪২৬৭৮১ থেকে ওই অপহরণকারীদের দেওয়া মোবাইল নম্বর ০১৮৩২-৩৫৯৫৯৩ এ সর্বমোট ৮৭ হাজার ৯৯০ টাকা সেন্ডমানির মাধ্যেমে অপহরণকারীদেরকে পাঠিয়ে দেয়।
কিন্তু এই পরিমাণ টাকা পাঠানোর পরেও অপহরণকারীরা তার ভাইকে মুক্তি দেয়নি। মুক্তি না দিয়ে তারা উল্টো আরো টাকা দাবি করে। আরো টাকা পেলে তার ভাইকে ছেড়ে দিবে। নইলে তার ভাইকে হত্যা করবে বলে মর্মে হুমকি দেয়। পরে তিনি সদর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অপহরণের মামলা দায়েরের পরও তার ভাইকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই আব্দুল খালেক বলেন, অপহৃত মোখলেছুর রহমানকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

_medium_1778677736.jpg)
_medium_1778676890.jpg)


_medium_1778674718.jpg)
_medium_1778674013.jpg)


