ভিডিও শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ রাত

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

বগুড়ায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যাহত শিল্প ও কৃষি উৎপাদন

বগুড়ায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যাহত শিল্প ও কৃষি উৎপাদন

হাফিজা বিনা : বগুড়ায় চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ ভাগ কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। শহরে ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ মিললেও পল্লী বিদ্যুৎ মিলছে ৫০ শতাশের কাছাকাছি। ফলে দিন রাত ২৪ ঘন্টায় লোড শেডিং হচ্ছে ১১ থেকে ১২ ঘন্টা।

গত কয়েক দিন ধরে উত্তরবঙ্গের এই বানিজ্যিক জনপদে বিদ্যুতের লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে উভয় স্থানে দিনে ও রাতে সমানতালে লোডশেডিং চলায় জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। এতে করে কেবল সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং উৎপাদন কমার উপক্রম হয়েছে কৃষি সেচ ও স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্প কারখানাগুলোতে।

গত কয়েকদিনের প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। সেই মাত্রাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। কংক্রিটের এই শহরে শহরের বড় বিপণিবিতানগুলোতে জেনারেটরের আওয়াজ থাকলেও ছোট দোকানদাররা গরমের মধ্যেই  বসে অলস সময় পার করছেন। বাসাবাড়ির বাসিন্দাদের অবস্থাও ভয়াবহ। শহরের চেয়েও শোচনীয় অবস্থা গ্রামগুলোতে।

বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আসলাম হোসেন তার দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, এই গরমে কাস্টমার দোকানে বসতে চায় না। ফ্যান না চললে কেউ বেশিক্ষণ থাকে না। অন্যদিকে, বগুড়া শহরের জামিল নগরের বাসিন্দা চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী সুবাহ বলে,  রাতে পড়তে বসলেই কারেন্ট চলে যায়। চার্জার লাইটে এই গরমে পড়া একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুম ঠিকমতো না হওয়ায় মাথা সারাদিন ধরে ভার হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন

কৃষি প্রধান এই জেলায় ধান চাষেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। কাহালু উপজেলার কৃষক করিম মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, এখন ধানের জমিতে সেচ দেওয়া খুব দরকার। কিন্তু দিনে ঠিকমতো কারেন্ট পাই না। লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প চালানো যাচ্ছে না, এতে ধান গাছের গোড়ায় পানি কমে যাচ্ছে। 
বগুড়া নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আতিকুল ইসলাম জানান, বগুড়ায় চাহিদা ১৩৫ মেগাওয়াট বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮১ মেগাওয়াট বিদ্যুত। যা মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পর্যায়ে।

বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনালেল ম্যানেজার মো: খুরশিদ আলম বলেন, বগুড়ার কাহালু, দুপচাঁচিয়া, আদমদিঘী, শিবগঞ্জ ও বগুড়া সদর এর জন্য রাতে ১০০ থেকে ১১০ এবং দিনে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রযোজন। কিন্তু আমরা পাচ্ছি তার অর্ধেক।

গতকাল বৃহস্পতিবার খারাপ গেলেও শুক্রবার লোড শেডিং ছিলো ২০ ভাগ। তিনি বলেন শুধু জ¦ালানী নয়, অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুৎ এর চাহিদা বেঢ়েছে। যতটুকু বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাই, তা রেশনিং করে সব এলাকায় দেওয়ার চেষ্টা করি। প্রচণ্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে অনেক বেশি। তবে কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যাহত শিল্প ও কৃষি উৎপাদন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ধান কর্তন ও সজিনা চারা রোপণের উদ্বোধন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকল রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যান চলাচল বন্ধ

বগুড়ার কাহালুতে প্রবাসীর ১ম স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন, স্বামীসহ ২য় স্ত্রী গ্রেফতার

নওগাঁর আত্রাইয়ে দোকান ঘরের সিঁধকেটে মালামাল চুরি

ইউএনও’র উদ্যোগে ডিমলায় শ্রুতি লেখকের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেল বাবু