রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসহ ২৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ
হাফিজা বিনা : একদিকে বৃষ্টি ও ঝড়ের আভাস। অন্যদিকে সূর্যের প্রখর তেজ, প্রকৃতির দুই বিপরীতধর্মী রূপ দেখছে মানুষ। এরই মধ্যে রাজশাহী, খুলনা বিভাগসহ দেশের ২৪ জেলার ওপর দিয়ে বিভিন্ন মাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সিলেট রংপুর, চট্রগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকার ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) চলতি বছরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) উত্তরের এই জনপদ বগুড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন হলো প্রখর সূর্যের তেজ আর ভ্যাপসা গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। একদিকে তপ্ত রোদ, অন্যদিকে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় প্রচণ্ড ঘামে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। সেই চরম মাত্রা আরও চরমে পৌছাচ্ছে বিদ্যুতের দিন-রাতের লোডশেডিং।
গত কয়েকদিন হলো ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই আগুনের হল্কা এসে পরছে রাস্তা-ঘাট ও জনজীবনে। তীব্র রোদের কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। অতিরিক্ত সূর্যদহনে রাস্তার পিচ গলে যানবাহনের চাকায় লেগে যেতে দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় খেটে খাওয়া মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। একটু শীতল পরশ পেতে গাছের ছায়া বা শরবতের দোকানে ভিড় করছেন তারা।
শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় কথা হয় রিকশাচালক রহমত মিয়ার সঙ্গে। কপাল থেকে ঘাম মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “বাবা, রিকশা চালানো দায় হয়ে গেছে। মাথার ওপর সূর্য যেন আগুন ঢালছে। ঘামতে ঘামতে শরীর অবস হয়ে আসছে। দুই ক্ষ্যাপ মারলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু পেট তো আর তাপ বোঝে না।” একই ভোগান্তির কথা জানালেন বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, “অফিসের কাজে বের হতে হয়েছে, কিন্তু গরমে টেকা দায়। রাস্তায় ধুলো আর কড়া রোদে মনে হচ্ছে গায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। এর ওপর আবার লোডশেডিং হলে কষ্ট আরও বেড়ে যায়।” অন্যদিকে ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরি-বোরো চাষ করা কৃষক। সেচ দিয়েও জমিতে পানি ধরে রাখতে পারছেন না। বিদ্যুতের লোডশেডিং সেই মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুনবিদ্যুত চালিত সেচ বন্ধ থাকছে দিনের প্রায় ৭ থেকে আট ঘন্টা। এতে করে হিটশক এ আক্রান্তের শঙ্কায় দিন পার করছেন কৃষক। চিকিৎসকরা এই তীব্র গরমে প্রচুর পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের রোদে বের না হতে এবং হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী আজ রাজশাহী ছাড়া আরও ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো যশোর ও সিরাজগঞ্জে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও পাবনায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৩, ঢাকায় ৩৬ দশমিক ২ এবং খুলনায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর বাইরে আরও আট জেলায় তাপপ্রবাহ বইছে। সেই জেলাগুলো হলো ঢাকায় ৩৬ দশমিক ৩, টাঙ্গাইল ও মাদারীপুর ৩৬, দিনাজপুর ৩৬ দশমিক ৫, রাঙামাটি ৩৬ দশমিক ৮ এবং বান্দরবান ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৮। এর সঙ্গে ৬ জেলা যুক্ত করলে ২৪ জেলায় আজ তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, বগুড়ায় কযেকদিন হলো মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। গতকাল বগুড়ার সর্বাচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আগামী পাঁচ দিন এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টিবলয়ের জন্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। ততদিন পর্যন্ত স্বস্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে গরমে নাজেহাল মানুষকে।
মন্তব্য করুন








