ভিডিও সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৪৫ দুপুর

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবতা  কৃষক-ফ্যামিলি কার্ড নীতিতে জনআস্থা

বগুড়া সদরের বাসিন্দা রুহিয়া বেওয়ার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)নিজের জন্য মাসে দুই হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়। আগে এলাকায় ভিক্ষা করে এই টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি। বর্তমানে রুহিয়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া দুই হাজার টাকায় প্রতি মাসের ওষুধ কিনে খেতে পারছেন। টাকা পেয়ে তাৎক্ষণিক সৃষ্টিকর্তার কাছে তারেক রহমানের সুস্বাস্থের জন্য দোয়া করেছেন। আজীবন তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। এই টাকা পেয়ে রুহিয়া মতো আরও অনেকে উপকৃত হয়েছেন। আগামীতেও হবেন। 

ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি এর মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ডও বিতরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থাৎ সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি কথা রেখেছেন। দেশের আপামর জনগণ এটি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, তারেক রহমান আগামীতেও কথা রাখবেন; জনগণের সাথে থাকবেন। 

সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করলে একটি বিষয়টি পরিষ্কার যে, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো যে ধরনের সরাসরি সহায়তা প্রত্যাশা করছিল, এই উদ্যোগ সেই শূন্যতাকে অনেকটাই পূরণ করেছে। ফলে সরকারি সহায়তা এখন আর বিমূর্ত কোনো ধারণা নয়। এগুলো এখন মানুষের হাতে পৌঁছানো একটি বাস্তব সুবিধা। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মিল থেকে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি বা প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো যেমন সহজ হয়, তেমনি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সহায়তা পেতে পারে। এতে করে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা বাড়ে।

একই সঙ্গে এটি একটি কার্যকর রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও কাজ করে। জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত উদ্যোগগুলো মানুষের মনে দ্রুত প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন তারা নিজেদের জীবনে তার সুফল দেখতে পায়, তখন সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি জনসমর্থন সুসংহত করার শক্তিশালী উপায়,যা শুধু নির্বাচনের সময় নয়, দীর্ঘমেয়াদেও প্রভাব ফেলে।

এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। কার্ড বিতরণে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব বা দুর্নীতি না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। তাহলেই এই উদ্যোগ কেবল সাময়িক জনপ্রিয়তা নয়, টেকসই আস্থার ভিত্তি তৈরি করতে পারবে।

সাধারণভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনস্তত্ব হলো রাজনীতিতে যখনই নতুন নেতৃত্ব আসে, তখন মানুষের প্রত্যাশা নতুন করে জেগে ওঠে। অতীতের ব্যর্থতা ভুলে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরতে চায় জনগণ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের ক্ষেত্রেও সেই চিত্র ব্যতিক্রম নয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যেই জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে,এই উদ্যোগগুলো কতটা টেকসই, আর কতটা কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে এগোতে পারবে? নাকি নব্য সুবিধাবাদী কোনো শ্রেণি এই বিষয়টিকে ম্লান করে দিবে!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযমের আহ্বান, বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিদের জন্য সরকারি গাড়ি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ, এ ধরনের পদক্ষেপ এক সময়ে ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি ক্ষমতার সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একইভাবে জ্বালানি বাজারের অস্থির সময়ে তদারকি জোরদার করতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের মতো সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সক্রিয়তার পরিচয় বহন করে। 

তবে বাস্তবতা হলো,তাৎক্ষণিক উদ্যোগ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় খুব বেশি লাভবান হওয়া কঠিন। এর চেয়ে বরং প্রয়োজন সুপরিকল্পিত নীতি, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং কার্যকর বাস্তবায়ন। 

বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, এসব কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিও চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েছে। অনেক বাগানের মধ্যে হাজার হাজার লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ এমন সংকটের সুযোগে কেউ কেউ বেশি সক্রিয়ভাবে দুর্নীতি করছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুতদারি, মূল্য কারসাজি এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এটি দেশের জন্য ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের দায়িত্ব দ্বিমুখী। একদিকে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীরা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করেন, তবে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজতর হতে পারে। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম সীমারেখা আছে রাজনৈতিক কর্মীদের ভূমিকা যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরই থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

ক্ষমতায় আসার পর যে চ্যালেঞ্জটি প্রায় সব রাজনৈতিক দলই মোকাবিলা করে, তা হলো সুযোগসন্ধানীদের উত্থান। সুসময়ে ‘মধু খেতে’ আসা এই শ্রেণি শুধু দলীয় কাঠামোকে দুর্বল করে। সেই সাথে সরকারের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই নিয়োগ, পদায়ন ও নীতিনির্ধারণে সতর্কতা অপরিহার্য। ব্যক্তিগত আনুগত্যের চেয়ে যোগ্যতা ও সততাকে অগ্রাধিকার না দিলে দীর্ঘমেয়াদে তার খেসারত দিতে হয়। একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতির আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন। যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের পাশে থেকেছেন, তাদের অবদান উপেক্ষা করলে দলীয় ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এই মূল্যায়ন যেন অন্ধ পক্ষপাতিত্বে পরিণত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একটি আধুনিক রাজনৈতিক দলের জন্য প্রয়োজন মেধা, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ এই তিনের সমন্বয়।

অনেক সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে। কিছু ঘটনা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমের কাছে ভয়ে মুখ খুলছে না। এসব নিয়ে একটি স্বাধীন সেল গঠন করা যেতে পারে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। যদি সত্যিই একটি কার্যকর, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, দলের বাহিরে সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যই ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে। তবে এই সেলের কার্যকারিতা নির্ভর করবে তার স্বাধীনতা, তদন্তের মান এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর। শুধুমাত্র কাগুজে কাঠামো তৈরি করে লাভ নেই; প্রয়োজন বাস্তব প্রতিফলন।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তির কথা বলতে গেলে আমাদের দৃষ্টি ফেরাতে হবে গ্রামবাংলার দিকে। বিশেষ করে উত্তরের পিছিয়ে পড়া মানুষদের কথা; যমুনা নদী এবং ব্রহ্মপুত্র নদের মধ্যে বসবাসরত মাটির সাথে লেগে থাকা শ্রমিকদের কথা। এসব নদীর বুকে গড়ে ওঠা চরগুলোতে এখন বিপুল পরিমাণ কৃষি উৎপাদন হচ্ছে। ভৌগোলিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তবে এই অবদানের বিপরীতে তারা কতটা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাচ্ছে এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, বাজারে প্রবেশাধিকার এসব ক্ষেত্রেই চরাঞ্চল কিংবা উত্তরের মানুষ এখনো পিছিয়ে। কুড়িগ্রামের কোনো এক চরের লতিফা, সখিনা, মর্জিনাদের মতো অসংখ্য মানুষের জীবনসংগ্রাম আমাদের অর্থনীতির অদৃশ্য ভিত্তি গড়ে তুলছে। তাদের উন্নয়ন আমাদের অর্থনৈতিক প্রয়োজনেই করতে হবে।

 রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য এখানে একটি বড় সুযোগ রয়েছে এসব জনগণের সঙ্গে বাস্তব সংযোগ তৈরি করা। নির্বাচনের সময়ের বাহিরে গিয়েও নিয়মিতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খোঁজখবর নেওয়া, তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করা;এসবের মাধ্যমেই আস্থা তৈরি হয়। গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই। নেতৃত্ব ও জনগণের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আগামীর ভবিষ্যত নির্মাণ করে দিবে। সব মিলে বর্তমান পরিস্থিতি একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। বড় জনসমর্থন যেমন শক্তি, তেমনি তা বড় দায়িত্বও। অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক বিন্যাস কাঠামো ঠিক রাখা সরকারের সামনে কিছুটা জটিল। কারণ এখানেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়ের ভিত্তি জরুরি। আমি বিশ্বাস করি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব বিষয় মাথায় রেখেই দেশ পরিচালনা করছেন। যার সুফল পাওয়া শুরু করেছেন বগুড়ার শাখারিয়া ইউনিয়নের রুহিয়ার বেওয়া। তাঁর মতো অনেক মানুষ একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছেন। কুড়িগ্রামের কোনো এক চরের লতিফা, সখিনা, মর্জিনা কিংবা টেকনাফের রহিমা-ছামিনাও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞায় ভালো থাকবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
 
লেখক :

কালাম আজাদ

সাধারণ সম্পাদক বগুড়া প্রেসক্লাব 
সমন্বয়কারী বিএনপি মিডিয়া সেল 
সদস্য বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবতা  কৃষক-ফ্যামিলি কার্ড নীতিতে জনআস্থা

জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত স্বৈরাচারী সরকার দায়ি: তথ্যমন্ত্রী

ইরানের জাহাজ জব্দ করায় চীনের উদ্বেগ

তারেক রহমানের উদ্যোগে আধুনিকায়নের পথে বগুড়া

দেশে জ্বালানির যে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, তা খুবই সীমিত: বাণিজ্যমন্ত্রী

জাপানে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত, সুনামি সতর্কতা জারি