অপহৃত শিশু তাওবা নিজ বুদ্ধিমত্তায় পালিয়ে বাঁচল
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই স্কুল শিক্ষার্থী পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পায়।
এ ঘটনার পর থেকেই ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবার আতঙ্কে দিন পার করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের কেডির মোড় এলাকার পাঠশালা স্ট্যাডি কেয়ার একাডেমি নামক একটি কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীটির পরিবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছে। অপহরণের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম তাহরিম তাওবা। সে শহরের খাস-নওগাঁ এলাকার মোরশেদুল আলমের মেয়ে এবং পিটিআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
থানায় এজাহার এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় শহরের কেডির মোড় এলাকায় অবস্থিত পাঠশালা স্ট্যাডি কেয়ার একাডেমি নামক একটি কোচিং সেন্টারে ওই শিক্ষার্থীকে রেখে আসে তার বাবা। এরপর সকাল নয়টায় মেয়েকে কোচিং সেন্টার থেকে নিতে গেলে মেয়েকে আর সেখানে পায় না।
কোচিংয়ের শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় আপনার মেয়ে কলম কেনার জন্য বাইরে গিয়েছে। শিশুটির বাবা বাইরে এসে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে একটি ফোন নম্বর থেকে জানানো হয় তার মেয়ে শহরের দয়ালের মোড় এলাকার একটি বাসায় নিরাপদে আছে। শিশুটির বাবা সেখান থেকে তার মেয়েকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে জানতে পারেন, একটি মাইক্রোবাসে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল কতিপয় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী তাওবা বলে, আমার কলমের কালি শেষ হওয়ায় কলম কিনতে বাইরে যাই। তখন হঠাৎ করেই আমার সামনে একটি মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায়। মাইক্রোবাস থেকে একটি লোক বের হয়। খাটো করে মাথায় কিছুটা টাক ছিল। পিছন দিক থেকে কয়েকজন এসে আমার চোখে রুমাল দিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার জ্ঞান ফিরে পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে।
আরও পড়ুনওখানে জানালা দরজা কিছুই ছিল না। লোকটা ফোনে কথা বলতে বলতে উপরে উঠে গিয়েছিল। তখন আমি জুতা হাতে নিয়ে দৌঁড় পালিয়ে আসি। অনেক দৌঁড়ানোর পরে একটি বাড়ির গেট খোলা পেয়ে সেই বাড়িতে ঢুকে পড়ি। তাদেরকে আমার বাবার ফোন নম্বর বললে তখন তারা আমার বাবাকে জানায়।
শিক্ষার্থীটির বাবা মোরশেদুল আলম বলেন, মেয়েকে কোচিং থেকে আনতে গিয়ে তাকে না পেয়ে শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলে তারা আমাকে জানায় মেয়ে কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে। তখন আমি কোচিংয়ের বাইরের দোকানগুলোতে দেখতে থাকি। সেখানে মেয়েকে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করি। এরপর হাসপাতালে খুঁজতে যাই। যে মেয়ে রোড পার হতে অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে কেউ হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়েছে কি না।
হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় একটি নম্বর থেকে আমার মোবাইলে কল আসে। তখন আমাকে জানায় আপনার মেয়ে আমাদের বাড়িতে আছে। দ্রুত এখানে আসেন। আমি তখন দয়ালের মোড়ের একটি বাসা থেকে আমার মেয়েকে নিয়ে আসি। এ ঘটনার পর থেকে আমি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। কি কারণে আমার মেয়েকে এভাবে অপহরণ করা হলো তা আমার জানা নেই।
আমার আরও দুটি সন্তান আছে। তাদেরও তো নিরাপত্তার প্রয়োজন। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করার অনুরোধ জানায়। এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতেই বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন








