প্রধানমন্ত্রীকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি
আন্তর্জাতিক নয়টি মানবাধিকার সংস্থা কিছু মানবাধিকারবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন না করে সংসদে পাস না করার আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনগুলো। একই চিঠি পাঠানো হয়েছে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফর্টিফাই রাইটস, আর্টিকেল নাইনটিন, সিপিজে এবং সিভিকাসসহ মোট নয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
সংগঠনগুলো বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার সুরক্ষায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশে অপব্যবহারের সুযোগ রয়ে গেছে। এসব অধ্যাদেশ কার্যকর রাখতে হলে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে পাস করতে হবে, তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে এগুলোতে আরও সংশোধন প্রয়োজন।
সংশোধন ছাড়া পাস না করার আহ্বান জানানো আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫, জাতীয় তথ্য শাসন অধ্যাদেশ ২০২৫, খসড়া জাতীয় সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৬। সংগঠনগুলোর মতে, এসব আইনের কিছু ধারা গোপনীয়তা, নজরদারি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুনচিঠিতে সব ধরনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
সংগঠনগুলো বলেছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। তার পতনের পর পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হলেও রাজনৈতিক গ্রেপ্তার, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকার সুরক্ষা এবং একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বানও জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলো মনে করছে, বর্তমান সময় মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1773689909.jpg)
_medium_1773686273.jpg)


_medium_1773674105.jpg)


