তেঁতুলিয়ায় নোটিশ জারি ছাড়াই জমি খারিজের রমরমা ব্যবসা
তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নোটিশ জারি ছাড়াই করতোয়া সোলার কোম্পানির নামে চলছে জমি খারিজের রমরমা ব্যবসা। এই জালিয়াতি ব্যবসার সাথে জড়িত আছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ভূমি, সাভেয়ারসহ ইউনিয়ন তহশিলদার। জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে করতোয়া সোলার লিমিটেড (কেএসএল)’র সাথে ৩০ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন ও পাওয়ার ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
এই চুক্তির ফলে কেএসএলের উৎপাদিত বিদ্যু ক্রয় করবে বিপিডিবি। করতোয়া সোলার লিমিটেড ১৩০ একর জমির উপর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এলক্ষ্যে গত ২০২১ সালের আগস্ট মাসের ১৮ তারিখের ৩১.৪৭.৭৭০০.০১৭.৪২.০০৩.২১.৭০৩ নং স্মারকে জেলা প্রশাসন করতোয়া ও পদ্মা সোলার লিমিটেড কর্তৃক ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরশক্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের নিমিত্তে এক ফসলি অকৃষি পতিত জমি ক্রয়ের পূর্বানুমতির আদেশে শর্তাবলী বেঁধে দেন।
কিন্তু তা লঙ্ঘন করে বেক্সিমকো ‘করতোয়া ও পদ্মা সোলার লিমিটেড ২০১৭ সালে ফসলি আবাদি জমি ক্রয় শুরু করে দুই বছরে দালালের মাধ্যমে প্রায় ২৭৬ একর জমি ক্রয় করেন। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর তেঁতুলিয়া উপজেলার তৎকালীন ইউএনও ফজলে রাব্বীর কাছে ০৫ শতক কিনে ২০ শতক দখল করে জোর করে রেজিস্ট্রি করার ও বেদখলের অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে ইউএনও অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় সুষ্ঠু তদন্ত না করে অবৈধ সুবিধা নিয়ে প্রায় ৮০একর জমি বিক্রিত মালিককের কাউকে নোটিশ না করেই গোপনে করতোয়া সোলারের নামে জমি খারিজ করে দেন।
আরও পড়ুনপরবর্তীতে ইউএনও ফজলে রাব্বী ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চলে যাওয়ার পরেও অনলাই সার্ভার খোলা রেখে সহকারী ভূমি কমিশনার হিসেবে মার্চ মাসের অর্ধেক সময় পর্যন্ত কোম্পানীর নামে জমি খারিজ অব্যাহত রাখে। পরে বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর অজ্ঞাত কারণে সদরের সহকারী ভূমি কমিশনার মোহন মিঞ্জিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনারভূমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেন। তিনি ২০২৪ মার্চের শেষ সপ্তাহে যোগদান করেই একইভাবে নোটিশ ছাড়া ১ম সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস দায়িত্বে থাকাবস্থায় প্রায় ৫০ একর থেকে ২০০ একর জমি করতোয়া সোলারের নামে খারিজ করে দেন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বিক্রিত জমি সম্পর্কে কোন মামলা থাকলে, দখল না থাকলে জমি খারিজ করে দেয়া যাবে না। এছাড়া ইউএনও এর মাধ্যমে কৃষি অফিসারের রিপোর্ট নেয়া হয়নি। সংশি¬ষ্ট কৃষি অফিসার এলাকায় না যেয়ে না দেখেই রিপোর্ট দিয়েছে। এদিকে বর্তমান সহকারী ভূমি কমিশনার প্রশিক্ষণে গেলে ফের সদরের সহকারী কমিশনার ভূমি মোহন মিঞ্জিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বও দিয়েছে জেলা প্রশাসক। বর্তমান জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান বদলী হয়ে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ইউএনওকে দায়িত্ব না দিয়ে সদরের সহকারী কমিশনার ভূমিকে দায়িত্ব দেয়ায় আবারও নামজারি বাণিজ্য শুরুর আশঙ্কা করছে। তাই ভুক্তভোগীরা নোটিশ ছাড়া কোম্পানীর নামে জমি খারিজের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা সমন্বিত দুর্নীতি কমিশন ও পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচিত এমপি’র সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মন্তব্য করুন







