সাতক্ষীরায় মেয়ের গায়ে হলুদের দিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মায়ের মৃত্যু
সন্তানদের মুখে দুধ তুলে দিতে প্রতিদিনের মতোই সকালে গোয়ালঘরে ঢুকেছিলেন তিনি। ঘরভর্তি ছিল বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা, মেয়ের গায়ে হলুদের রঙিন স্বপ্ন। কিন্তু সেই ঘরেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন সন্তানের জননী।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, মঙ্গলবার ছিল দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির মেজ মেয়ে অর্পিতা সানার (১৮) বিয়ের আগের দিন। ঘরে চলছিল উৎসবের আমেজ, চলম ছিল গায়ে হলুদের প্রস্তুতি। প্রতিদিনের মতো ভোরে সন্তানদের জন্য দুধ সংগ্রহ করতে গোয়ালঘরে ঢোকেন দীপিকা। কিন্তু সেখানে থাকা বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ থেকে অসাবধানতাবশত স্পৃষ্ট হন তিনি। ঘটনাস্থলেই নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ।
দীপিকা ও কৃষক দেবাশীষ সানার সংসারে রয়েছে তিন সন্তান- অভীক (১৯), অর্পিতা (১৮) ও অর্ণব (৯)। মেজ মেয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে দীপিকা নিজেই ঘরদোর গুছিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে বিয়ের সানাই বাজার আগেইবাড়িতে এখন চলছে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি।
আরও পড়ুনখাজরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। দীপিকার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমেদ খান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ফেরেনি। মরদেহ ফিরলে পরিবার সৎকার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1772538171.jpg)







