ভিডিও শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০৯ রাত

অতিরিক্ত রাত জাগার ফলে হতে পারে যেসব ক্ষতি

ছবি: সংগৃহীত, প্রতীকী ছবি

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কাজের চাপ, পড়াশোনা কিংবা ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে অনেকেই নিয়মিত রাত জেগে থাকেন। মাঝে মধ্যে রাত জাগা তেমন ক্ষতিকর না হলেও অভ্যাসে পরিণত হলে তা শরীর ও মনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, বাড়ে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদে আয়ুও কমে যেতে পারে।

নিয়মিত রাত জাগলে শরীরে যে ক্ষতিগুলো হতে পারে, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—

নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের জৈব ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক ব্যাহত হয়। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয় এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই সমস্যা অব্যাহত থাকলে হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঘুমের সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত কম ঘুমালে হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন, হৃদ্‌কম্পন বৃদ্ধি এমনকি হার্ট ফেইলিউরের মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

রাত জাগার ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে। এর প্রভাবে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে, অল্প বয়সেই দেখা দেয় বলিরেখা, ব্রণ, বয়সের ছাপ এবং চোখের নিচে কালচে দাগ।

আরও পড়ুন

২০১৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘ সময় জেগে থাকার কারণে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা দেখা দেয়। এর ফলে ওজন ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, যা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

টানা কয়েক মাস পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়, মনোযোগ কমে আসে এবং দ্রুত চিন্তা করার দক্ষতা হ্রাস পায়। দৈনন্দিন কাজেও ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায়।

নিয়মিত রাত জাগার আরেকটি বড় ক্ষতি হলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমান না, তাদের শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়ে। মানুষ স্বভাবত নিশাচর নয়। দিন ও রাতের নির্দিষ্ট ছন্দ অনুসরণ না করলে শরীর তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারায়। যারা ভোর পর্যন্ত জেগে থাকেন, তারা সকালে সময়মতো উঠতে পারেন না এবং সারাদিন মানসিক ক্লান্তি, অবসাদ ও বিষণ্নতায় ভোগেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অতিরিক্ত রাত জাগার ফলে হতে পারে যেসব ক্ষতি

যে কারণে ইংরেজিতে কথা বলেন না মেসি

যৌথ বাহিনীর অভিযানে সারাদেশে ১৭১ জন আটক

শেখ পরিবারের নামে থাকা ঢাবির ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে ‘রোহিঙ্গা’ বললেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

জবির ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি লড়বেন ৪৩ জন