ভিডিও মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৮ রাত

শিকলে বন্দি দিন কাটে মেধাবী হাসানের

শিকলে বন্দি দিন কাটে মেধাবী হাসানের

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন হাসান সরকার (৩২)। বিদ্যালয়ে যেমন ছিলেন চটপটে, তেমনি লেখাপড়াতে ছিলেন মেধাবী। সেই সময় ‘নানীর হোটেল’ নামের একটি হোটেল ছিল বাবা মায়ের।

তারাগঞ্জে বেশ নামকরা হোটেল ছিল এটি। কিন্তু পর পর বাবা-মা দু’জনেই মারা যাওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শিকলে বন্দি জীবন যাপন করছেন হাসান সরকার। ভ্যানচালক একমাত্র ছোট্ট ভাই হাসানুর দরিদ্রতার কারণে চিকিৎসা তেমন করাতে পারেনি। যার ফলে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় ভাইকে হারানোর ভয়ে শিকলে বেঁধে রেখেছেন।

হাসানুর এখন লোহার শিকলে বন্দি। একে বলে মেধাবীরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধিকতায় আস্টে-পিস্টে আটকে আছে। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশেই রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের চৌপথী বড়ব্রিজের পাশেই ভাঙাচোড়া বাড়িটিই হাসান সরকারের।

হাসান সরকার যখন কলেজে পড়তেন ঠিক সেসময় তার বাবা মোবারক হোসেনের ওই স্থানেই নামকরা নানীর হোটেল হিসেবে পরিচত হোটেল ছিল। সেই সময় হোটেলের রোজগার দিয়েই চলতো মা-বাবা, দুইভাই ও দুই বোনের সংসার। সেসময় পুরোপুরি মানসিক অসুস্থতা ছিল না হাসান সরকারের।

দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালে মা জাহানারা (নানী নামে পরিচিত) এবং ২০২২ সালে বাবা মোবারক হোসেন মারা যায়। পরে সেই হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন দুই ভাই হাসান সরকার ও হাসানুর। ঠিক এসময় থেমে যায় হাসানের চিকিৎসা।

ভাই হাসানুর ভ্যান চালিয়ে তার স্ত্রী-সন্তান ও তার মুখে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতেই দিতে পারেন না চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায় তার। এসময় মানসিক যন্ত্রণায় প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজনকে মারধর ও গালমন্দ শুরু করায় ৪ বছর ধরে শিকলে বেঁধে রাখা হয় হাসান সরকারকে।

আরও পড়ুন

আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়ে থাকা একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরের খুপড়িতে বসে আছেন হাসান সরকার। পায়ে ৪ ইঞ্চির মতো লোহার শিকল। চুল-দাড়ি কেটে না দেয়ায় তাতে জট বেঁধেছে। দীর্ঘদিন থেকে গোসল না করায় শরীর থেকে বেরুচ্ছে দুগর্ন্ধ। মাঝে মাঝে ভাল ভাবেই কথাও বলছেন।

খাওয়া-দাওয়া ঠিক মত হচ্ছে না। চিকিৎসা নেই তা অকপটে বললেন। হাসানের ভাই হাসানুরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসান ২০০২ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.৭৫ পেয়ে এসএসসি পাস করে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তিও হন। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তার মানসিক সমস্যা বেশি হয়ে যায়। ধারদেনা করে তারপরও ভাইয়ের চিকিৎসা করা হয়।

কিন্তু দুই বেলা ভাত খাওয়ারই টাকা জোটে না চিকিৎসা করা তাই হয়নি। হাসানের ভাগ্নি শামিমা বলেন, নানা-নানি মারা যাওয়া পর মামার মানসিক রোগ বেড়ে যায়। পাগলামো বেশি শুরু হয়। কোথায় বেরিয়ে যায় খুঁজেও পাওয়া যায় না। মানুষ তার পাগলামি দেখে ভয় পায়। কোন উপায় না পেয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। টাকার অভাবেই মামার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসানের স্কুল জীবনের সহপাঠি মোকারম হোসেন, আব্দুর রশিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বন্ধু হাসান খুবই সাহসী ও চটপটে ছিলেন। লেখাপড়ায় মেধাবী ছিলেন তাকে দেখে খুবই কষ্ট হয়। বিত্তবান মানুষজন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে তার চিকিৎসা সেবা করালে সে মনে হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোনাববর হোসেন জানান, একজন মেধাবী হারিয়ে যেতে পারে না। আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। তাকে সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিকলে বন্দি দিন কাটে মেধাবী হাসানের

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জমিতে ইরি বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

দুই যুগেও চালু হয়নি বগুড়ার নন্দীগ্রাম ২০ শয্যার অধুনিক হাসপাতাল

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে ইফতারি বাজার, জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে হাফিজুলের মিহিদানা ও ছানার পোলাও

দিনাজপুরের বিরামপুরে অটোরিকশার চাপায় গৃহবধূ নিহত

কুড়িগ্রামকে একটি আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী জনপদে রূপান্তর করাই আমার প্রধান লক্ষ্য : ড. আতিক মোজাহিদ