ভিডিও শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪৫ রাত

জয়পুরহাটের কালাইয়ে কালব’র সুদের ফাঁদে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, শিক্ষক-কর্মচারী কারাগারে

জয়পুরহাটের কালাইয়ে কালব’র সুদের ফাঁদে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, শিক্ষক-কর্মচারী কারাগারে। প্রতীকী ছবি

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : কালাইয়ে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের (কালব) চড়া সুদের ঋণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা ও কল্যাণের আশ্বাস দিয়ে কালব যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় কালব ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে । এমনকি ২ জন শিক্ষক কারাগার ভোগ করছেন।

কালব কালাই শাখা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এ উপজেলায় মোট সদস্য সংখ্যা ৪৪০ জন। সকল সদস্যকেই গড়ে তিন লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৬ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে বকেয়া মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা এবং ঋণ খেলাপির পরিমাণ দাড়িয়েছে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা।

খেলাপি ঋণের জেরে ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে দুইজন জেল-হাজতে রয়েছে। এমন ঘটনায় পুরো উপজেলা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গ্রাহকের নামে উকিল নোটিশ এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঋণের শর্ত অনুযায়ী মাসিক হাজারে ২০ টাকা সুদের পরিবর্তে ২৪ শতাংশ সুদ আরোপ করা হয়েছে। কিস্তি পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই সুদের ওপর আবার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা যোগ করা হচ্ছে। ফলে চক্রবৃদ্ধি সুদ, জরিমানাসহ নানা ফি যুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঋণের অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

উপজেলার মোলামগাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিন বছর আগে কালব থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা করে কিস্তি দিয়ে পুরো টাকা পরিশোধ করেছি। তিন মাস আগে ঋণ খেলাপী দেখিয়ে তারা আমাকে ৭ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য লাল নোটিশ দিয়েছিল। আমি টাকা পরিশোধ করার পরও তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। গত মাসে আদালতে হাজিরাও দিয়েছি।

আরও পড়ুন

কালবের ঋণের চাপ ও মামলার আতঙ্ক এই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একাধিক শিক্ষক জানান, তারা আগের মতো মনোযোগ দিয়ে পাঠদান করতে পারছেন না। কেউ কেউ সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়ানো, কোচিং, দোকানের কাজ এমনকি হাটবাজারে সময় দিচ্ছেন।

কালবের চেয়ারম্যান ও শান্তিনগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, ঋণ কার্যক্রম মাসিক সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যারা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন না,গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের ঋণে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ যোগ হয়। গ্রাহকদের গাফিলতির কারণেই শেষ পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে হয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা সমবায় অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কালবের ঋণ কার্যক্রমে যে এত অনিয়ম তা কেউ আমাকে অবগত করেননি। বছরে একবার আমরা তাদের এই কার্যক্রম অডিট করি মাত্র। এর বাহিরে কিছুই জানা নেই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জয়পুরহাটের কালাইয়ে কালব’র সুদের ফাঁদে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, শিক্ষক-কর্মচারী কারাগারে

জাতীয় কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন বিজিবি ও পুলিশ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নাশকতা মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

তারেক রহমানের সাথে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

উত্তরাঞ্চলে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, রোববার শেষ দিন

যশোরে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা