সিরাজগঞ্জের চলনবিলাঞ্চলে তীব্র্র শীতে বোরো চারা হলুদ বর্ণ হয়ে মরার উপক্রম
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: শস্য ভান্ডার চলনবিল অঞ্চলের প্রধান ফসলের আবাদ বোরো ধানের বীজতলা তৈরি কাজ চলছে পুরো দমে। বর্তমানে কৃষক রবিশস্য হয়নি এমন জমিতে পৌষের মাঝামাঝিতে এবং রবিশস্য সরিষা ঘরে তোলার সাথে সাথে বোরো ধানের চারা ধান লাগানোর জন্য বীজতলা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু চলনবিলাঞ্চলে গত কয়েক দিনের বয়ে যাওয়া কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় ও চলমান তীব্র শীতের কারণে অনেকেই বোরো বীজ অঙ্কুরিত করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ে গেছেন।
তাড়াশের উত্তরমথুরাপুর গ্রামের কৃষক আছাদুজ্জামান জানান, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় প্রাথমিক বোরো বীজ অঙ্কুরিত হতে তিন-চারদিন সময়ের দরকার হয়। কিন্তু তীব্র শীতের কারণে বীজ অঙ্কুরিত হতে পাঁচ-ছয়দিন সময় লাগছে। আবার শীতের কারণে বীজ অঙ্কুরিত করাতে গিয়ে কৃষক শতভাগ বীজ অঙ্কুরিত করাতে পারছেন না। এরপর বীজ তলায় অঙ্কুরিত বীজ ধান ছিটানোর পর তার বাড়ন্তও শীতের কারণে কম হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মো. আফসার আলী জানান, যে সকল চারা বীজের বয়স ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে যে গুলোও বিবর্ণ হয়ে মরার উপক্রম হয়েছে। আবার শীতের কারণে অনেক বীজ তলার ৮ থেকে ১৫ দিন বয়সী বোরো চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। যা নিয়ে কৃষক চিন্তিত।
চলনবিলের কৃষি তথ্যানুযায়ী চলতি বছর বিলেরর দশটি উপজেলা এলাকায় প্রায় ৮০-৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হবে। এরমধ্যে রবিশস্য আবাদ করা হয়নি এমন জমিতে স্বল্প পরিসরে বোরো চারা লাগানোও শুরু হয়েছে। এছাড়া রবিশস্য উঠার পর বোরো আবাদের জন্য এ অঞ্চলে বোরো বীজতলার ৪০ ভাগ তৈরি হয়ে গেছে। আর ৬০ ভাগ বোরো বীজতলা তৈরির কাজ চলছে।
আরও পড়ুনকিন্তু চলমান শৈত্য প্রবাহ ও তীব্র শীতের কারণে তৈরির কাজ চলছে এমন কৃষকদের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে পুরো আবাদের মৌসুমে চারা বীজের সংকটও হতে পারে কৃষকেরা এ আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা। আর বোরো ধানের চারা বিবর্ণ হওয়া বা মরার মত হলে ভয়ের কিছু নেই। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এ দুটি সমস্যা আর থাকবেনা। পাশাপাশি প্রতিদিন অল্প অল্প করে বীজতলায় সেচের গরম পানি দিতে হবে।
মন্তব্য করুন

_medium_1767447798.jpg)






