টাঙ্গাইল-২ আসনে গণঅধিকারের শাকিল উজ্জামানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী, দলের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক এ ঘোষণা দেন।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শাকিল উজ্জামান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জুলাই যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি গোপালপুর–ভূঞাপুরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত একটি জনপদ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে ব্যবসা করতে পারবেন। পাশাপাশি গোপালপুর–ভূঞাপুরকে একটি শিক্ষার নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
শাকিল উজ্জামান বলেন, আমাদের নেতৃত্বেই দেশের চাকরি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের কোটা বৈষম্যের অবসান ঘটেছে। যখন কেউ সাহস দেখায়নি, তখন আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের দাবি প্রতিষ্ঠা করেছি। সে কারণেই আজ সাধারণ মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখছে এবং বিশ্বাস করছে, ভবিষ্যতেও আমরা তাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকব।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুনউল্লেখ্য, শাকিল উজ্জামানের রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে ওঠে ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। সে সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’-এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদ গঠিত হলে তিনি দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার নিপীড়নের শিকার হন। ২০২১ সালে র্যাব কর্তৃক গুম হয়ে ‘আয়না ঘর’ নামে পরিচিত নির্যাতন কেন্দ্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে জানা যায়।
দীর্ঘ কারাবাসের পর মুক্তি পেলেও তিনি গুম-খুন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান বজায় রাখেন। পাশাপাশি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সম্মুখ সারির নেতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
শাকিল উজ্জামান টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের সন্তান। তার শিক্ষাজীবনের শুরু হেমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং হেমনগর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ছাড়াও বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক






_medium_1767447798.jpg)
