বডিবিল্ডিং কখন জায়েজ কখন নাজায়েজ? জানুন শরয়ী বিধান
শায়খ আসিম আল হাকিমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পেশিবহুল শরীর গঠনের (Bodybuilding) উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা (Bulking) এবং জিমে শরীর চর্চা করার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান কী?
উত্তরে শায়খ আসিম আল হাকিম বলেন,
খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সুন্নাহভিত্তিক মূল নীতি হলো নিজের পাকস্থলীকে তিন ভাগে ভাগ করা; এক ভাগ খাবারের জন্য, এক ভাগ পানীয়ের জন্য এবং বাকি এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা। এটিই হলো খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামের মধ্যপন্থা ও পরিমিতিবোধ।
তবে মাঝেমধ্যে নিজের পেট ভরে তৃপ্তি সহকারে খাওয়া জায়েজ। যেমনটি হজরত আবু হোরায়রার (রা.) একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে এসেছে। তিনি যখন অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ছিলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে দুধ পান করতে দেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) বার বার তাকে আরও বেশি পান করতে বললেন, একপর্যায়ে বললেন, ‘যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম করে বলছি! আমার পেটে আর বিন্দুমাত্র স্থান অবশিষ্ট নেই, আমি সম্পূর্ণ পরিতৃপ্ত।’ এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, মাঝে মাঝে পেট ভরে সম্পূর্ণ তৃপ্তির সঙ্গে খাবার গ্রহণ করা জায়েজ।
এখন প্রশ্ন হলো, বডি বিল্ডারদের ক্ষেত্রে মাসল গঠন বা পেশিবহুল শরীর তৈরির জন্য যে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা হয়, তার বিধান কী?
সাধারণ পরিস্থিতিতে ক্ষতিকারক স্টেরয়েড, হরমোন গ্রোথ ড্রাগ বা কোনো হারাম উপাদান ছাড়া শরীর চর্চা করা এবং জিম বা ব্যায়ামাগারে গিয়ে ব্যায়াম করা মূলত জায়েজ।
আরও পড়ুনকিন্তু এটি যখন কোনো মানুষের মধ্যে চরম আসক্তিতে পরিণত হয় এবং শরীর প্রদর্শনী বা অহংকারে রূপ নেয় যেমন নিজের সতর উন্মুক্ত করা, অন্যায় উদ্দেশ্যে পেশি প্রদর্শন করা এবং অসৎ নিয়তে মানুষকে প্রভাবিত করা বা ইমপ্রেস করার চেষ্টা করা—তখন তা আর জায়েজ থাকে না।
এ ধরনের লোকদেখানো মানসিকতা কেবল গুনাহ-ই বাড়ায় না, বরং নিজের দিকে চুম্বকের মতো বদনজর (Evil Eye) আকর্ষণ করে, যা মানুষের ক্ষতি ডেকে আনে। এতে করে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে ভুল স্থানে ও ভুল উপায়ে অপব্যবহার করে অহংকার প্রকাশ করা হয় এবং নিয়তের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হয়।
সুতরাং, আমার দৃষ্টিতে নিয়ত ভালো না হলে এবং এগুলো লোকদেখানোর মাধ্যম হলে তা হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
শায়খ আসিম আল হাকিম: আসিম বিন লুকমান আল-হাকিম (জন্ম: ২৩ নভেম্বর ১৯৬২) বিশ্ববিখ্যাত একজন ইসলামি স্কলার ও দাঈ, যিনি মূলত সালাফি বা আসারি মতাদর্শ অনুসরণ করেন। তিনি বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইংরেজিভাষী মুসলিমদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও সহজ ইংরেজি ভাষায় সমসাময়িক নানা সামাজিক ও ধর্মীয় প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়ে থাকেন।
সূত্র: শায়খ আসিম আল হাকিমের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








