শিশুর কান্নাকাটির কারণে কি নামাজ কাজা করা যাবে?
প্রশ্ন: নামাজ আদায় করার সময় শিশু সন্তান যদি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, তবে কি নামাজ ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীতে তা কাজা হিসেবে পড়া যাবে?
উত্তর: নামাজ নির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করা ফরজ। তাই শিশু সন্তানের সাধারণ কান্নাকাটির কারণে সময়মতো নামাজ আদায় না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াক্ত পার করে দেওয়া এবং পরবর্তীতে তা কাজা হিসেবে পড়া জায়েজ নেই। নামাজ নির্ধারিত ওয়াক্তের ভেতরেই আদায় করা আবশ্যক।
এ ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা ও করণীয় বিষয়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. নামাজ সংক্ষেপ করা
নামাজ শুরু করার পর যদি শিশু কান্না শুরু করে, তবে নামাজ ভেঙে না ফেলে কেরাত এবং রুকু-সিজদার তাসবিহ সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ আদায় করে নামাজ শেষ করা যেতে পারে। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) জামাতে নামাজ পরিচালনাকালে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনলে নামাজ সংক্ষেপ করতেন, যাতে মায়ের কষ্ট না হয়।
আরও পড়ুন২. নামাজের ভেতরে হালকা নড়াচড়া বা কাছে টানা
শিশু যদি সামান্য কান্নাকাটি করে, তবে কিবলা থেকে সিনা কিবলার দিক থেকে না ফিরিয়ে নামাজের ভেতরেই আমলে কালিল বা হালকা নড়াচড়া করে (যেমন: হাত বাড়িয়ে শিশুকে কাছে টেনে নেওয়া বা স্পর্শ করা) শান্ত করার সুযোগ থাকলে তা করা যাবে। এতে নামাজ নষ্ট হবে না।
৩. যখন নামাজ ভেঙে ফেলা জায়েজ বা ওয়াজিব
শিশু যদি এমন মারাত্মক ও অতিরিক্ত চিৎকার বা কান্নাকাটি করে—যাতে তার বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয় (যেমন: দম বন্ধ হয়ে যাওয়া, আগুনে হাত দেওয়া কিংবা খাট বা উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকা)—তবে নামাজ ভেঙে শিশুকে রক্ষা করা জায়েজ, এমন কি ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াজিব।
এ রকম জরুরি অবস্থায় নামাজ ভেঙে ফেললে, শিশুকে নিরাপদ ও শান্ত করার পর ওয়াক্ত থাকা অবস্থাতেই পুনরায় নতুন করে সেই নামাজ আদায় করে নিতে হবে। ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ওয়াক্ত পার করে নামাজ কাজা করা যাবে না।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








