বগুড়ার সোনাতলায় মরিচের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে এখন মরিচ চাষের ব্যাপক সমারোহ। কোথাও জমি প্রস্তুত, কোথাও চারা রোপণ, আবার কোথাও চলছে গাছের পরিচর্যা। মরিচ চাষকে কেন্দ্র করে উপজেলার কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে তৈরি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। লাভের আশায় মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এই উপজেলায় ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১ হাজার ২৫ হেক্টর। ইতিমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৭০ ভাগ জমিতে মরিচ রোপণ ও বপণ কাজ শেষ হয়েছে।
উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের ৯টি চরে কৃষিজমিতে মরিচ চাষ গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। উর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষ করছেন। তাদের আশা, মৌসুম শেষে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়বে।
উপজেলার খাটিয়ামারী এলাকার বাসিন্দা শামছুল হক, মির্জাপুর এলাকার আজাদুল ইসলাম, পূর্বসুজাইতপুর এলাকার এরশাদ মিয়া বলেন, মরিচের চাহিদা বছরজুড়ে থাকে। তাই কৃষক অন্য ফসলের চেয়ে অর্থকরী এই ফসল চাষে ঝুঁকে পড়েছে বেশি। জমি তৈরি, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা পরিষ্কার ও ফসল সংগ্রহ—সব মিলিয়ে এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকেরা।
আরও পড়ুনতবে মরিচ চাষে লাভের পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। অতিবৃষ্টি, জমিতে পানি জমে থাকা, রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।
এ অবস্থায় কৃষকদের মানসম্মত বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে উৎপাদিত মরিচের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা আরও উৎসাহিত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, সোনাতলায় মরিচ চাষের উপযোগী মাটি থাকায় কৃষক রেকর্ড পরিমাণ জমিতে এবার মরিচ চাষ করেছে।
ইতিমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৭০ ভাগ জমিতে মরিচ রোপণ ও বপণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন কৃষক মরিচ ক্ষেত পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার মরিচের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি একটি অর্থকরী ফষল।
মন্তব্য করুন







