বগুড়ার কাহালু হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ শূন্য স্বাস্থ্য সেবা মিলছেনা উপজেলাবাসীর, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট, এক্সরে ফিল্ম নেই
কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া’র কাহালু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একাধিক পদ শূন্যসহ আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল হওয়া ও এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী।
প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটিতে নাক-কান-গলা (ইএনটি), শিশু,অর্থোপেডিক,চক্ষু,দন্ত,যৌন ও চর্ম,গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, কার্ডিওলজি ও অ্যানেসথেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক।
নাক-কান-গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও অন্যত্র ডেপুটেশনে রয়েছেন। ফলে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞগনের চিকিৎসাসেবা পেতে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালসহ মহানগরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি প্রায় দুই বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অপরদিকে, গত দুই মাস ধরে এক্স-রে ফিল্মের সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারছেন না। ফলে বাড়তি খরচে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে তাদের। চিকিৎসক ও জনবল সংকটও হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইনাম আহম্মেদ জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্য মেডিকেল অফিসারের ৪৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২০ জন। তৃতীয় শ্রেণির ১১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৭৩ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৬টি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ছয়জন।
এছাড়া হাসপাতালের পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী চালকের পদেও সংকট রয়েছে। পাশাপাশি রান্নার জন্য কোনো বাবুর্চি নেই বলে জানা গেছে। প্রাক্তন বাবুর্চিকে দিয়ে রান্নার কাজ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনএদিকে,হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন ও মহিলা ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় সেগুলো থেকে কার্যক্রম সরিয়ে হাসপাতালের পূর্বপাশের প্রথম শ্রেণির আবাসিক কোয়ার্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। কোয়ার্টারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মহিলা ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা দিতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নতুন প্রশাসনিক ভবন সহ মহিলা ওয়ার্ড নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহ চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত প্রথম শ্রেণির আবাসিক কোয়ার্টারটিও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেখানে চিকিৎসকদের বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে হাসপাতালের কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হননা। সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগে রোগী দেখার নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা হলেও কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছেনা।
এ বিষয়ে কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইনাম আহম্মেদ জানান, চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে আসা-যাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট থাকা এবং এক্স-রে ফিল্মের সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন








