যে খাবারগুলো মাইক্রোওয়েভে দেবেন না
লাইফস্টাইল ডেস্ক : মাইক্রোওয়েভ রান্নাঘরের জন্য একটি আশীর্বাদস্বরূপ, কিন্তু সবকিছুই এতে ব্যবহার করা যায় না। যদিও বাসি খাবার গরম করা বা ঝটপট রান্না করার জন্য এটি চমৎকার, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট খাবার মাইক্রোওয়েভে দিলে তাদের স্বাদ, গঠন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকী অনিরাপদও হয়ে উঠতে পারে। জেনে নিন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে, যেগুলো আপনার মাইক্রোওয়েভ থেকে দূরে রাখা উচিত-
ব্রকলি
ব্রকলিকে ঝটপট গরম করার জন্য আদর্শ মনে হতে পারে, কিন্তু মাইক্রোওয়েভে দিলে এর অপরিহার্য পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই ক্রুসিফেরাস সবজিটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর যা মাইক্রোওয়েভের তীব্র তাপে ভেঙে যায়।
চুলায় ভাপে রান্না করলে পুষ্টিগুণ বেশি সংরক্ষিত থাকে, যা স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করে। যারা তাড়াহুড়োর মধ্যে আছেন, তাদের জন্য হালকা সেদ্ধ করে নেওয়া আরেকটি চমৎকার উপায়।
ডিম
মাইক্রোওয়েভে আস্ত ডিম দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন। তাপের কারণে ডিমের খোসার ভেতরে বাষ্প জমে যায়, যার ফলে ডিমটি বিস্ফোরিত হতে পারে।
এটি শুধু নোংরাই নয়, এটি একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করে। ডিম সেদ্ধ করা একটি নিরাপদ পদ্ধতি, যা কোনো ঝামেলা ছাড়াই ডিমকে সমানভাবে রান্না করে। এর বদলে চুলায় পোচ করে নিতে পারেন। পোচিং একটি মৃদু পদ্ধতি, যার ফলে ডিম নরম ও কোমল হয়। উভয় পদ্ধতিতেই ডিমের পুষ্টিগুণ এবং স্বাদ বজায় থাকে।
ভাত
অনেক রান্নাঘরেই বাসি ভাত একটি প্রধান খাদ্য, কিন্তু মাইক্রোওয়েভে তা পুনরায় গরম করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সমস্যাটি হলো ব্যাসিলাস সেরিয়াস (Bacillus cereus) নামক একটি ব্যাকটেরিয়া, যা রান্নার পরেও বেঁচে থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে ঠান্ডা হওয়ার সময় বংশবৃদ্ধি করে।
মাইক্রোওয়েভে গরম করলেও এই জীবাণুগুলো সবসময় নির্মূল হয় না। বাসি ভাত নিরাপদে খাওয়ার জন্য চুলায় সামান্য পানি দিয়ে গরম করুন, যাতে তা ভালোভাবে এবং সমানভাবে গরম হয়।
আরও পড়ুনএই পদ্ধতিটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমায় এবং ভাতের গঠনও বজায় রাখে। মনে রাখবেন, সঠিক সংরক্ষণই মূল বিষয়; রান্না করার পরেই ভাত দ্রুত ফ্রিজে রাখুন। পুনরায় গরম করার ক্ষেত্রে সামান্য বাড়তি যত্ন নিরাপত্তা এবং স্বাদ উভয়ই নিশ্চিত করে।
আলু
মাইক্রোওয়েভে আলু গরম করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, বিশেষ করে যখন এটি ফয়েলে মোড়ানো থাকে। এর ফলে আলু সমানভাবে রান্না নাও হতে পারে এবং ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনামের মতো ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
ওভেনে বেক করলে আলু ভালোভাবে রান্না হয়, যার ফলে ভেতরটা নরম এবং খোসা মুচমুচে থাকে। হাতে সময় কম থাকলে আলু পাতলা করে কেটে প্যানে ভেজে একটি দ্রুত সাইড ডিশ হিসেবে পরিবেশন করার কথা ভাবতে পারেন।
মুরগির মাংস
কাঁচা মুরগির মাংস মাইক্রোওয়েভে গরম করলে তা অসমভাবে রান্না হতে পারে, যার ফলে কিছু অংশ কাঁচা থেকে যায় এবং তাতে ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে। সালমোনেলা এবং অন্যান্য খাদ্যবাহিত রোগের এই ঝুঁকি এই সহজ উপায়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
বেকিং বা গ্রিলিং বেছে নিন, এই পদ্ধতিগুলো মাংসকে ভালোভাবে রান্না হওয়া এবং স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা নিশ্চিত করে। দ্রুত খাবার তৈরির জন্য মুরগির মাংস পাতলা করে কেটে সবজির সাথে ভেজে নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
এতে শুধু মাংস সমানভাবে রান্নাই হয় না, এর স্বাদ ও গঠনও উন্নত হয়। মুরগির মাংস রান্নার ক্ষেত্রে সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিলে অসম তাপের বিপজ্জনক ঝুঁকি ছাড়াই সুস্বাদু খাবার নিশ্চিত হয়।
মন্তব্য করুন









