ভিডিও সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৩ পিএম

মুঘল আমলের স্মৃতির খোঁজে পলাশবাড়ীর ঐতিহাসিক তালতলী জামে মসজিদ

মুঘল আমলের স্মৃতির খোঁজে পলাশবাড়ীর ঐতিহাসিক তালতলী জামে মসজিদ

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন নিদর্শনগুলো আমাদের অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গল্প বলে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট এলাকার তালতলী জামে মসজিদটি তেমনই এক প্রাচীন জনশ্রুতিকে বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই মসজিদটির গায়ে জড়িয়ে রয়েছে মুঘল আমলের স্থপত্যের সুবাস, যা স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট এলাকার তালতলী জামে মসজিদকে ঘিরে স্থানীয়দের রয়েছে আবেগ ও নানা স্মৃতিকথা। প্রবীণদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, একসময় এই মসজিদের পুরোনো স্থাপনাটিতে চমৎকার গম্বুজের আদল ছিল। এলাকার ৭৬ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা শাকোয়াত বলেন, “আমরা নিজেরাও এই মসজিদের সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল জানি না। তবে ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার মুখে এই মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা শুনে আসছি।”

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, এই মসজিদটি মুঘল আমলেই নির্মিত হয়েছিল। যদিও এর স্বপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল বা লিখিত ঐতিহাসিক দলিল এখনো মেলেনি। সময়ের পালাবদলে পাল্টেছে চারপাশের জনপদ। মহল্লায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে মুসল্লির সংখ্যাও। একসময়ের ছোট পরিসরের জরাজীর্ণ পুরোনো স্থাপনাটি আর মুসল্লিদের ধারণ করতে পারছিল না।

ফলে সময়ের প্রয়োজনে পুরোনো সেই ভবনটি ভেঙে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক বহুতল জামে মসজিদ। আর এই আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে প্রাচীন মসজিদের অমূল্য স্থাপত্যশৈলী ও অনেক সোনালী স্মৃতি। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এই মসজিদের পুরোনো স্থাপত্য এবং এর নেপথ্যের ইতিহাস নিয়ে এলাকার এক অধ্যাপক কিছু লেখালেখি করেছিলেন। মূলত সেই লেখার সূত্র ধরেই অনেকে আজও এই মসজিদটিকে মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।

আরও পড়ুন

তবে কেবল জনশ্রুতি বা লোকমুখে প্রচলিত কথার ওপর নির্ভর করে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তালতলী জামে মসজিদের প্রকৃত ইতিহাস, সঠিক নির্মাণকাল এবং এর সুনির্দিষ্ট স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য উন্মোচনে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পুরোনো দলিল দস্তাবেজ ঘেঁটে দেখা এবং নিবিড় প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা।

সঠিক ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণার সন্ধান মিললে হয়তো অচিরেই এই মসজিদের প্রকৃত বয়স ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। তালতলীর এই প্রাচীন মসজিদটি ফিরে পাবে তার হারানো ইতিহাসের সঠিক স্বীকৃতি—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুঘল আমলের স্মৃতির খোঁজে পলাশবাড়ীর ঐতিহাসিক তালতলী জামে মসজিদ

১

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে উন্নয়ন

২

সিরাজগঞ্জে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও কেক কারখানায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান

৩

বগুড়ার আদমদীঘিতে এনজিও ম্যানেজারের ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

৪

প্রকৃতির লাল রত্ন : মুগ্ধতা ছড়ানো লাল মুনিয়া

৫

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : মহিত তালুকদার

৬