ইয়েমেন যুদ্ধে ‘ধরাশায়ী’, ৪ দেশের কাছে ‘ভাড়ায়’ সৈন্য চায় সৌদি
আন্তর্জাতিক ডেস : ইয়েমেনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই তীব্রতর হওয়ায় নিজ সামরিক বাহিনীর চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্য চাচ্ছে সৌদি আরব। বিদেশ থেকে চুক্তিভিত্তিক সামরিক কর্মী ও সেনা নিয়োগের বড় উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সিরিয়ার কাছে সৈন্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায় রিয়াদ। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখেনি দামেস্ক।
সম্প্রতি ইয়েমেনের স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত স্থানগুলোতে হুথিরা নতুন করে আধিপত্য বিস্তার করার পর সৌদি আরব পাকিস্তানসহ মিশর ও লিবিয়া থেকেও নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক কর্মী খোঁজার তৎপরতা জোরদার করেছে।
অন্যদিকে আঙ্কারা ও একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় পাকিস্তান বা তুরস্ক ইয়েমেনে কোনো সরাসরি স্থল অভিযানে অংশ নেবে না; বরং তাদের মূল মনোযোগ থাকবে সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর আত্মরক্ষামূলক সুরক্ষার দিকে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তুর্কি টুডের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। একাধিক সিরীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনে নিজেদের সামরিক চাহিদা মেটাতে সৌদি আরব যোদ্ধা চেয়েছিল। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে একটি সিরীয় বাহিনী সংগঠিত ও মোতায়েনের অনুরোধ সিরীয় সরকার ‘বিনয়ের সঙ্গে’ প্রত্যাখ্যান করেছে।
একটি সূত্র বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা হয়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কয়েক মাস আগেই অনুরোধটি করা হয়েছিল। সিরিয়া বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, তারা নিজেদের সামরিক সংগঠন প্রক্রিয়ায় মনোনিবেশ করছে এবং তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কোনো সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা তাদের নেই। সংঘাতে অংশ নিতে ব্যক্তিদের সিরিয়ার বাইরে ভ্রমণে বাধা দিচ্ছে না সিরীয় সরকার। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, এ ধরনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কোনো দায় দামেস্ক নেবে না।
ইয়েমেনে সিরীয়দের পাঠানো বা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তুরস্কের ভূমিকা ছিল বলে যে দাবি উঠেছে, তা তুর্কি সূত্রগুলোও নাকচ করে দিয়েছে। সূত্রগুলো বলেছে, ‘এই বিষয়ে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সিরিয়া ও সৌদি আরব সার্বভৌম রাষ্ট্র।’ তারা আরও জানায়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চুক্তিটি আইনি ভিত্তি পাওয়ার পর মক্কা চুক্তির আওতায় তুরস্ক কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুনইয়েমেনের ঘটনাবলির সঙ্গে পরিচিত আঞ্চলিক সূত্রগুলোও সংগঠিতভাবে সেনা পাঠানোর খবর অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, সিরীয়দের ইয়েমেনে স্থানান্তরের জন্য তুরস্ক পরিচালিত কোনো কর্মসূচি নেই। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানায়, তুর্কি কর্মীদের পাশাপাশি কাজ করা একটি দলের অংশ হিসেবে সিরীয় যোদ্ধারা ইয়েমেনে গিয়েছিল বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
ইয়েমেনের ঘটনাবলির সঙ্গে পরিচিত আঞ্চলিক সূত্রগুলোও সংগঠিতভাবে সেনা পাঠানোর খবর অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, সিরীয়দের ইয়েমেনে স্থানান্তরের জন্য তুরস্ক পরিচালিত কোনো কর্মসূচি নেই। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানায়, তুর্কি কর্মীদের পাশাপাশি কাজ করা একটি দলের অংশ হিসেবে সিরীয় যোদ্ধারা ইয়েমেনে গিয়েছিল বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইয়েমেনে নিজেদের সামরিক চাহিদা মেটাতে সৌদি আরব বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক কর্মী ও প্রশিক্ষক নিয়োগের বিকল্প খতিয়ে দেখছে। ইয়েমেনে লড়াই তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূল বরাবর এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
সৌদি আরব বেশ কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগের কথা ভাবছিল। পাকিস্তানও কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা জোরেশোরেই এগিয়ে নিচ্ছিল সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক






_medium_1789740468.jpg)

_medium_1789739498.jpg)