বগুড়ায় শজিমেক হাসপাতাল ঘটনায় গ্রেফতার ৪ শিক্ষার্থী
শজিমেক হাসপাতাল : ট্রলিম্যানের সাথে বাক-বিতন্ডা থামাতে গিয়ে মারপিটে আহত হয় ৪ আনসার সদস্য
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও ট্রলি বহনকারী এক কর্মীর মধ্যে বাকবিতন্ডা থামাতে গিয়ে মারপিটে চার আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোগীর স্বজন ও চার শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। আহত আনসার সদস্যরা হলেন শাহিনুর, মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ও আজাদ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানান, বুধবার রাতে বগুড়া মহানগরের নাটাইপাড়ায় বৌ-বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত কলেজ শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান ইরাম শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। এসময় ইরামের বন্ধুদের সাথে হাসপাতালের ট্রলিম্যান ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের মারপিটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দায়িত্বে থাকা অন্যান্য আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে চার আনসার সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ ও অতিরিক্ত আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলায় জড়িত কয়েকজন পালিয়ে গেলেও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বোরহান উদ্দিন (১৮), তানভীর আহমেদ (১৭), সামির আহম্মেদ (১৮) ও রিশাদ (১৭)। তারা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ও বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বগুড়ার জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলাহ্ তুহিন বলেন, ‘হট্টগোল ঠেকাতে গিয়ে চার আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে পুলিশ বলছে, মারামারির এক পর্যায়ে মোটর সাইকেলের চাবির রিং দিয়ে আনসার সদস্যদের আঘাত করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতের কোন ঘটনা ঘটেনি।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ইকবাল বাহার বলেন, ‘আনসার সদস্যদের মারধর করা হয়েছে এবং তারা আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, এঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়ার আনসার ক্যাম্পের প্লাটুন কমান্ডার মো. আব্দুল বারী বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি গ্রেফতার ৪ জনসহ অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করেছেন। ওই আসামিদের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত চার আনসার সদস্যদেরকে সরকারি কাজে বাধা ও মারপিট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইন্সপেক্টর মাহফুজ আরো বলেন, ওই আনসার সদস্যদেরকে ছুরিকাঘাত করা হয়নি। তাদেরকে মারপিটের এক পর্যায়ে মোটর সাইকেলের চাবির রিং দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এতে তারা জখমপ্রাপ্ত হন। গ্রেফতারকৃতদের গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ধৃত আসামিদের স্বজনরা বলেন, এঘটনায় ওই চার শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে বেদম মারপিট করা হয়েছে। এতে তারাও গুরুতর আহত হন। স্বজনরা জানান, গত বুধবার রাতে মহানগরের নাটাইপাড়ায় বউবাজার এলাকায় প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ইরাম। পরে বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। জরুরি বিভাগ থেকে দ্রুত এক্স-রে করার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ সময় ট্রলি বহনের দায়িত্বে থাকা নাহিদ নামের এক ট্রলিম্যানের সাথে টাকার দাবি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
শজিমেক হাসপাতালের ৪ নম্বর গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আজাদ জানান, রোগীর স্বজনদের সাথে ট্রলি নিয়ে হট্টগোল বাধে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে ক্যাম্পে খবর দেওয়া হলে আরও সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। আহত রোগীর বন্ধুদের সাথে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এতে আজাদসহ টহলরত আনসার সদস্য আনোয়ার, হাসপাতালের ভেতরে দায়িত্বরত মোস্তাফিজ এবং গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহিন আহত হন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার কলেজ শিক্ষার্থীকে রাতেই আটক করে সদর থানা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আটক চার শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দিন, তানভীর আহমেদ, সামির আহম্মেদ ও রিশাদকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে আহত ইরামের মা ইমতিয়াজ আরা অভিযোগ করে বলেন, ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেডিকেলে এসে দেখেন প্রথম দফা এক্স-রের পর অপারেশন থিয়েটারে তার ভাঙা পা ব্যান্ডেজ করা হয়। পরে আবার এক্স-রের জন্য ট্রলি জোগাড় করতে গিয়ে ইরামের বন্ধুরা বিড়ম্বনার শিকার হন। তার দাবি, এ নিয়ে অভিযোগ জানানোর পর অ্যাপ্রোন পরিহিত ওই ট্রলিম্যান ও তার সঙ্গীরা উল্টো ইরামের বন্ধুদের ওপর হামলা চালায়, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্যরা এগিয়ে আসেন। তিনি জানান, ইরাম ও তার বন্ধুরা কোনো আনসার সদস্যের ওপর হামলা করেননি বরং হেনস্তার শিকার হওয়ার পর তাদের ডিবি ও সদর থানা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন








_medium_1789631429.jpg)