উন্নয়ন নিয়ে দৈনিক করতোয়াকে এমপি বাদশা
এবছরেই উদ্বোধন হবে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মান কাজ, দৃশ্যমান হবে বিমান বন্দর
স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে দৈনিক করতোয়ার সাথে খোলামেলা ও বিস্তারিত কথা বলেছেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। দীর্ঘ দেড় যুগ সুবিধাবঞ্চিত থাকার পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসায় বগুড়াবাসী এখন বড় পরিবর্তনের আশা করছেন। বঞ্চিত মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে নিজের নানা পরিকল্পনা ও আশার কথা শুনিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা জানান, জেলায় উন্নয়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। নবগঠিত সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ এখন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সিটি করপোরেশন ১৪শ কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষণা করেছে এবং অচিরেই আরও নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
বহুপ্রতীক্ষিত বগুড়া বিমানবন্দর নিয়ে সুখবর দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরেই বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগেই বগুড়ায় ড্রোন নির্মাণ কাজ শুরু হবে। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা কিছুটা সময় নিলেও আগামী জানুয়ারির মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়াতেই পাইলট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও খুব দ্রুত চালু হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে জানিয়ে এমপি বাদশা বলেন, বগুড়ার সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি নামকরণের। খালেদা জিয়া বগুড়ার গাবতলী ও সদর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, অথচ তার নামে বগুড়ায় বড় কোনো স্থাপনা নেই। তাই জনগণের এই দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। তিনি আরও জানান, মহানগরের সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানেই এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহানগরের কৈগাড়ী এলাকার পুরাতন উপজেলা পরিষদ ভবনেই এই ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে এবং খুব দ্রুত এর কাজ শুরু হবে।
এছাড়া স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের জন্য ১৩ একর জমির প্রয়োজন। তিনমাথায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ২০ একর জমি পড়ে রয়েছে, যেখানে এক স্থানেই সব কাজ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সদরের কৈচড় ও কাহালুর কিছু অংশ মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ একর জমির ওপর একটি আধুনিক শিল্প পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে জমি পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুতই জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণের কাজ চলছে বলে জানান এই সংসদ সদস্য। চলতি বছরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে চলা বিদ্যমান রেলপথটি বাইপাস করা হবে নাকি উড়ালসেতু (ফ্লাইওভার) করা হবে, সে বিষয়ে বর্তমানে সমীক্ষা (স্টাডি) চলছে। যেটিতে খরচ কম ও জনগণের সুবিধা বেশি হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে।
আরও পড়ুনবগুড়ার দীর্ঘস্থায়ী যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মসংস্থানের সন্ধানে এসে অনেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছেন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত হুট করে কিছু করা যাচ্ছে না। একই সমস্যা হকারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে শহরের সাতমাথা থেকে থানা মোড়, ঝাউতলা, সার্কিট হাউজ এবং কোর্ট চত্বরের সামনে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
করতোয়া নদীর পূর্ব পাশ দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন বলে জানান। মূল শহরের যানজট কমাতে নদীর পূর্ব পাশ দিয়ে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি। এছাড়া করতোয়া নদী খনন, স্লোপ প্রটেকশন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বনানী থেকে মাটিডালী পর্যন্ত নতুন রাস্তা করার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা হয়েছে। একই সাথে করতোয়ার ওপর থাকা ঝুঁকিপূর্ণ দুটি বেইলি ব্রিজের স্থানে আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কথাও জানান তিনি।
মহানগরের যানজট কমাতে পাইকারি আড়ত স্থানান্তরের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন পালন করবে। রাজা বাজারের রাস্তা সচল রাখতে এবং যানজট এড়াতে রাতেই মালামাল ওঠানামার কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাস্তা দখল করে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
বগুড়ার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান এমপি বাদশা। নতুন ভবন নির্মাণের ফাইল বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এবং এর নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। এছাড়া এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির নতুন ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া চলছে, যেখান থেকে উৎপাদিত ওষুধ দিয়ে উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসাসেবার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
বগুড়া বিভাগ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসচর্চার এক অনুষ্ঠানে এই অঞ্চলের পাঁচ জেলার এমপি-মন্ত্রীরা বগুড়া বিভাগ গঠিত হলে এর সাথে থাকার জোরালো মত দিয়েছেন। পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি প্রকাশিত হলেও সরকারি পর্যায়ে এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।
সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বগুড়ার সামগ্রিক উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত বগুড়া গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







