ভিডিও শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৪৪ পিএম

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

এর ফলে আগে থেকেই সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বয়লারে সমস্যা দেখা দেওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।

কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর এই কেন্দ্রটি যখন সবেমাত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, ঠিক তখনই একটি ইউনিট বন্ধ হলো।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করেছিল, এরপরই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একাধিক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যার কারণে মধ্যরাতের দিকে ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ করতে হয়।

এক কর্মকর্তা জানান, মেরামতের কাজ শুরু করতেই অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তিনি আরও যোগ করেন, ইউনিটটি পুনরায় সচল করতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যখন গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির তীব্র সংকটের কারণে এমনিতেই উৎপাদন ঘাটতিতে ভুগছে, ঠিক এমন এক কঠিন সময়ে এই ঘটনা ঘটল।

আরও পড়ুন

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।

কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। আদানি কর্তৃপক্ষ এর আগে রেলপথে যানজট ও লোডিং বিধিনিষেধকে স্বল্প সরবরাহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এ ছাড়া অতিবৃষ্টির কারণেও কয়লার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না।

গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।

সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার  থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে

কবীর-লালনের গানে দেশজুড়ে আট বিভাগে ভাবের আসর

৪১ দেশে চালু হচ্ছে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা

ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

সিরিয়ায় আসাদ আমলের ৯ পাইলট গ্রেফতার

ডিআর কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, নিহত অন্তত ২৯ শিশু